ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬। ০৫:১৯ মিনিট

৬০ চেয়ারে চলছে জবির ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের লড়াই

৬০ চেয়ারে চলছে জবির ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের লড়াই
ছবিঃ সংগ্রহীত

দুপুর গড়াতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দীর্ঘ হতে থাকে অপেক্ষার সারি। খাবার সংগ্রহের পর শুরু হয় বসার জায়গা খোঁজার আরেক দফা অপেক্ষা। কেউ সময়ের অভাবে না খেয়েই ক্লাসে ফিরছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে বা পালা করে খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় রয়েছে মাত্র ৬০টি বসার চেয়ার। আসনসংকটের পাশাপাশি খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও সেবার সীমাবদ্ধতায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোট ১২টি টেবিল রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি চার আসনবিশিষ্ট এবং বাকি ছয়টি ছয় আসনবিশিষ্ট। সে হিসাবে মোট আসন রয়েছে ৬০টি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে খাবার নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পেলেও বসার আসন পান না শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের শহীদ মিনারের বেদিতে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। 

আসনসংকটের পাশাপাশি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৪০ টাকা খরচ করেও অনেক সময় মানসম্মত খাবার পান না তারা। খাবারে মাঝেমধ্যে পোকামাকড় ও লোমযুক্ত মাংস পাওয়া যায়। অনেক সময় পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার না করেই তরকারি ও মাংস রান্না করা হয়। আবার খিচুড়ি অর্ধসিদ্ধ অবস্থায় পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া খাবার শেষে বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হিমেল বলেন, "অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের একমাত্র ভরসা এই ক্যাফেটেরিয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়  সকাল অথবা দুপুর  যখনই আসি, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হয়। বসে যে খাবার খাব, সে জায়গাও থাকে না। আমরা যারা দূর থেকে ক্যাম্পাসে আসি, তাদের খাবার নিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্যাফেটেরিয়ায় আসন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও নতুন একটি ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করলে আমরা ভোগান্তি থেকে কিছুটা রেহাই পেতাম।"

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফেজ আশিকুর রহমান বলেন," জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের তুলনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অনেকটাই হতাশাজনক। পুরো ক্যাম্পাসে একটিমাত্র কার্যকর ক্যাফেটেরিয়া। সেখানে বিকেল তিনটার পর গেলে খাবার নেই। রাতের খাবারের ব্যবস্থা নেই"।  

তিনি আরও বলেন," জকসু নির্বাচন ও প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও ক্যাফেটেরিয়ার অবস্থার কোনো বাস্তব উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখনো জায়গা না পেয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে খাবার খায় এ দৃশ্য আমি বহুবার দেখেছি। লম্বা লাইন বিরক্তিকর পরিবেশ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পর্যন্ত নাই।  প্রতিশ্রুতি আসে, মানুষ যায়  শিক্ষার্থী শুধু অপেক্ষা করতে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে সবাই প্রতারণা করে যেই আসে।"

এসব বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো. মাসুদ বলেন, "শিক্ষার্থীর তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ার সক্ষমতা অনেক কম। তাই ব্যস্ত সময়ে আসনসংকট ও ভোগান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খাবারের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদ্যমান অবকাঠামো ও সুযোগ সুবিধার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

জকসু স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক  নুর মোহাম্মদ বলেন,"ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়নে ভর্তুকির কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রতিনিধিসহ তিনটি কমিটি একই সুপারিশ

করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বহন করলেও খাবারের মূল্যে কোনো নগদ ভর্তুকি প্রদান করছে না । ফলে বর্তমান বাজারদরে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।"

ক্যাফেটেরিয়ার আসনসংকট নিরসনে তিনি বলেন,"বর্তমান ক্যাফেটেরিয়ার কাঠামো পরিবর্তন করে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী বসতে পারবেন এমনভাবে লম্বা টেবিল স্থাপন করা যেতে পারে। তবে জায়গা সংকটের কারণে এই পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।  বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে নতুন ফিল্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান বলেন, "ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের প্রধান সমস্যা জায়গার সংকট। নতুন করে ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে টিএসসি সংস্কার কমিটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেখানে বেশি সংখ্যক খাবারের দোকান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।"

খাবারের মান ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "খাবারের মান তদারকিতে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসিরের নেতৃত্বে একটি দল নিয়মিত কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্যাসলাইন না থাকায় বাইরের লাইনের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি পানির ফিল্টার সাধারণত সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী হলেও এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করেন। ফলে অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমস্যা দেখা দেয়। আবার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নিজস্ব কোনো বাজেট নেই। কোনো সমস্যা দেখা দিলে অর্থ বরাদ্দের পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে হয়। তাই অনেক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।"

বিষয় : জবি শিক্ষার্থীর খাবারের লড়াই

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৬০ চেয়ারে চলছে জবির ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

দুপুর গড়াতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দীর্ঘ হতে থাকে অপেক্ষার সারি। খাবার সংগ্রহের পর শুরু হয় বসার জায়গা খোঁজার আরেক দফা অপেক্ষা। কেউ সময়ের অভাবে না খেয়েই ক্লাসে ফিরছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে বা পালা করে খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় রয়েছে মাত্র ৬০টি বসার চেয়ার। আসনসংকটের পাশাপাশি খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও সেবার সীমাবদ্ধতায় প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোট ১২টি টেবিল রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি চার আসনবিশিষ্ট এবং বাকি ছয়টি ছয় আসনবিশিষ্ট। সে হিসাবে মোট আসন রয়েছে ৬০টি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে খাবার নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পেলেও বসার আসন পান না শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের শহীদ মিনারের বেদিতে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। 

আসনসংকটের পাশাপাশি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৪০ টাকা খরচ করেও অনেক সময় মানসম্মত খাবার পান না তারা। খাবারে মাঝেমধ্যে পোকামাকড় ও লোমযুক্ত মাংস পাওয়া যায়। অনেক সময় পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার না করেই তরকারি ও মাংস রান্না করা হয়। আবার খিচুড়ি অর্ধসিদ্ধ অবস্থায় পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া খাবার শেষে বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হিমেল বলেন, "অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের একমাত্র ভরসা এই ক্যাফেটেরিয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়  সকাল অথবা দুপুর  যখনই আসি, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হয়। বসে যে খাবার খাব, সে জায়গাও থাকে না। আমরা যারা দূর থেকে ক্যাম্পাসে আসি, তাদের খাবার নিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্যাফেটেরিয়ায় আসন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও নতুন একটি ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করলে আমরা ভোগান্তি থেকে কিছুটা রেহাই পেতাম।"

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফেজ আশিকুর রহমান বলেন," জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের তুলনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অনেকটাই হতাশাজনক। পুরো ক্যাম্পাসে একটিমাত্র কার্যকর ক্যাফেটেরিয়া। সেখানে বিকেল তিনটার পর গেলে খাবার নেই। রাতের খাবারের ব্যবস্থা নেই"।  

তিনি আরও বলেন," জকসু নির্বাচন ও প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও ক্যাফেটেরিয়ার অবস্থার কোনো বাস্তব উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখনো জায়গা না পেয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে খাবার খায় এ দৃশ্য আমি বহুবার দেখেছি। লম্বা লাইন বিরক্তিকর পরিবেশ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পর্যন্ত নাই।  প্রতিশ্রুতি আসে, মানুষ যায়  শিক্ষার্থী শুধু অপেক্ষা করতে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে সবাই প্রতারণা করে যেই আসে।"

এসব বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো. মাসুদ বলেন, "শিক্ষার্থীর তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ার সক্ষমতা অনেক কম। তাই ব্যস্ত সময়ে আসনসংকট ও ভোগান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খাবারের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদ্যমান অবকাঠামো ও সুযোগ সুবিধার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

জকসু স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক  নুর মোহাম্মদ বলেন,"ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়নে ভর্তুকির কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রতিনিধিসহ তিনটি কমিটি একই সুপারিশ

করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বহন করলেও খাবারের মূল্যে কোনো নগদ ভর্তুকি প্রদান করছে না । ফলে বর্তমান বাজারদরে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।"

ক্যাফেটেরিয়ার আসনসংকট নিরসনে তিনি বলেন,"বর্তমান ক্যাফেটেরিয়ার কাঠামো পরিবর্তন করে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী বসতে পারবেন এমনভাবে লম্বা টেবিল স্থাপন করা যেতে পারে। তবে জায়গা সংকটের কারণে এই পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।  বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে নতুন ফিল্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান বলেন, "ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের প্রধান সমস্যা জায়গার সংকট। নতুন করে ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে টিএসসি সংস্কার কমিটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেখানে বেশি সংখ্যক খাবারের দোকান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।"

খাবারের মান ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "খাবারের মান তদারকিতে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসিরের নেতৃত্বে একটি দল নিয়মিত কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্যাসলাইন না থাকায় বাইরের লাইনের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি পানির ফিল্টার সাধারণত সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী হলেও এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করেন। ফলে অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমস্যা দেখা দেয়। আবার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নিজস্ব কোনো বাজেট নেই। কোনো সমস্যা দেখা দিলে অর্থ বরাদ্দের পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে হয়। তাই অনেক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।"


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত