ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ । ০৬:১৬ মিনিট

মাহফুজ অপহরণ-হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

মাহফুজ অপহরণ-হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর নাজির মো. সুমন হাওলাদার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে মাহফুজকে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় শিশুটিকে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাহফুজের বাবা ইতালিপ্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পূর্বশত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

এ মামলায় থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিষয় : গোপালগঞ্জ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাহফুজ অপহরণ-হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর নাজির মো. সুমন হাওলাদার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে মাহফুজকে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় শিশুটিকে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাহফুজের বাবা ইতালিপ্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পূর্বশত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

এ মামলায় থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত