বঙ্গোপসাগরে তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফ তথা দেশের মূল ভূখণ্ডের নৌ-যোগাযোগ টানা ছয় দিন ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উত্তাল সাগর আর ঝড়ো হাওয়ার এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই শুরু হয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় দ্বীপের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সব শঙ্কা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে জয় করে শেষ পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরেছে পরীক্ষার্থীরা।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত সাড়া দেয় টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী ও শক্তিশালী বিশেষ বোটের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উত্তাল সমুদ্রের প্রবাল ঢেউ আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে পরীক্ষার্থীদের অত্যন্ত নিরাপদে ও সতর্কতার সাথে টেকনাফের মূল ভূখণ্ডের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। প্রশাসনের এই তড়িৎ উদ্যোগ এবং কোস্ট গার্ডের সাহসী ভূমিকার কারণে দ্বীপাঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা কোনো রকম বাধা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যেত না। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আবেদন পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করি এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশেষ বোটের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত বলেন, সাগর অত্যন্ত উত্তাল ছিল এবং সাধারণ ট্রলার চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের বিশেষ শক্তিশালী রেসকিউ বোট ও দক্ষ ক্রু মেম্বারদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের টেকনাফ নিয়ে আসি। ঝড়-জল উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পেরে কোস্ট গার্ড পরিবার গর্বিত।
বিষয় : সেন্টমার্টিন কোস্ট গার্ড

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফ তথা দেশের মূল ভূখণ্ডের নৌ-যোগাযোগ টানা ছয় দিন ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উত্তাল সাগর আর ঝড়ো হাওয়ার এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই শুরু হয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় দ্বীপের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সব শঙ্কা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে জয় করে শেষ পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরেছে পরীক্ষার্থীরা।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত সাড়া দেয় টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী ও শক্তিশালী বিশেষ বোটের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উত্তাল সমুদ্রের প্রবাল ঢেউ আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে পরীক্ষার্থীদের অত্যন্ত নিরাপদে ও সতর্কতার সাথে টেকনাফের মূল ভূখণ্ডের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। প্রশাসনের এই তড়িৎ উদ্যোগ এবং কোস্ট গার্ডের সাহসী ভূমিকার কারণে দ্বীপাঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা কোনো রকম বাধা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যেত না। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আবেদন পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করি এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশেষ বোটের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত বলেন, সাগর অত্যন্ত উত্তাল ছিল এবং সাধারণ ট্রলার চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের বিশেষ শক্তিশালী রেসকিউ বোট ও দক্ষ ক্রু মেম্বারদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের টেকনাফ নিয়ে আসি। ঝড়-জল উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পেরে কোস্ট গার্ড পরিবার গর্বিত।

আপনার মতামত লিখুন