টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবন। জেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে আম-কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল এবং সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে বেড়েছে সবজির দাম।
জেলা শহরের শান্তিমোড়, বটতলা, পাঠানপাড়া, টিকরামপুর, পুরাতন বাজার, বিশ্বরোড ও কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেক বাসাবাড়ির উঠান ও নিচতলার কক্ষেও পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন উপচে সড়কের সঙ্গে পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. মুসাইদ মাসরুর রানা জানান, গত এক সপ্তাহে জেলায় প্রায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ জুলাই একদিনেই ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, অতিবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচামরিচ, পটল, পেঁপে ও ঝিঙাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চাষিরা জানান, বৃষ্টির কারণে মৌসুমের শেষ সময়ে গাছে থাকা আম ফেটে যাচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতায় কাঁঠালও নষ্ট হচ্ছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে গাছে থাকা অনেক আম ফেটে গেছে। বিক্রির সময় এমন ক্ষতি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।”
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার বাগান মালিক আশরাফুল বলেন, “কাঁঠাল বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক কাঁঠাল ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এখন লোকসানে পরিণত হচ্ছে।”
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তহরুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার অনেক সবজি খেতে পানি জমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) আতিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে আমন বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত ফসল পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবন। জেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে আম-কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল এবং সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে বেড়েছে সবজির দাম।
জেলা শহরের শান্তিমোড়, বটতলা, পাঠানপাড়া, টিকরামপুর, পুরাতন বাজার, বিশ্বরোড ও কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেক বাসাবাড়ির উঠান ও নিচতলার কক্ষেও পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন উপচে সড়কের সঙ্গে পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. মুসাইদ মাসরুর রানা জানান, গত এক সপ্তাহে জেলায় প্রায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ জুলাই একদিনেই ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, অতিবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচামরিচ, পটল, পেঁপে ও ঝিঙাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চাষিরা জানান, বৃষ্টির কারণে মৌসুমের শেষ সময়ে গাছে থাকা আম ফেটে যাচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতায় কাঁঠালও নষ্ট হচ্ছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে গাছে থাকা অনেক আম ফেটে গেছে। বিক্রির সময় এমন ক্ষতি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।”
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার বাগান মালিক আশরাফুল বলেন, “কাঁঠাল বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক কাঁঠাল ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এখন লোকসানে পরিণত হচ্ছে।”
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তহরুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার অনেক সবজি খেতে পানি জমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) আতিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে আমন বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত ফসল পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন