চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর-বাদুরতলা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পাড়াপ্রতিবেশিগন মৃত পরিবার বেঁচে থাকা সদস্যদের সহমর্মিতাসহ শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঐ বাড়িতে শতশত মানুষের ভীড় দেখা গেছে।
নিহতরা হলেন, লক্ষীপুর-বাদুরতলা গ্রামের মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৮) এবং আশার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মিম।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাড়ির ভেতরে ছাদে ওঠার জন্য ব্যবহৃত একটি লোহার সিঁড়ি (বা মই) কোনোভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। সকালে ওই সিঁড়ি স্পর্শ করতেই প্রথমে আশা খাতুন ও তার মেয়ে মিম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের ছটফট করতে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান হাসিনা বেগম। কিন্তু তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে স্থানীয়দের আরেকটি বর্ণনায় জানা যায়, প্রথমে হাসিনা বেগম লোহার সিঁড়িতে হাত দিলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে বাঁচাতে গিয়ে আশা খাতুন ও মিমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমে। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টির কারণে বাড়ির ভেতরে থাকা লোহার সিঁড়িটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। অসাবধানতাবশত সেটি স্পর্শ করায় একে একে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতির একটি টিম মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছেন। এ বিষয়ে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ফজলুর রহমান জানান বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। তাদের টিম বারঘেরিয়া থেকে ফিরে আসলে প্রকৃত রহস্য বুঝা যাবে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোঃ জঙ্গি বলেন বিষয়টি ভীষণ দুঃখ জনক। আমাদের পক্ষ থেকে ঐ পরিবার কে আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে জানান। পাশাপাশি জেলার বিদ্যুৎ ব্যবহার কারি দের সতর্ক ভাবে বিদ্যুৎ ব্যাবহারের আহবান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর-বাদুরতলা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পাড়াপ্রতিবেশিগন মৃত পরিবার বেঁচে থাকা সদস্যদের সহমর্মিতাসহ শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঐ বাড়িতে শতশত মানুষের ভীড় দেখা গেছে।
নিহতরা হলেন, লক্ষীপুর-বাদুরতলা গ্রামের মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৮) এবং আশার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মিম।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাড়ির ভেতরে ছাদে ওঠার জন্য ব্যবহৃত একটি লোহার সিঁড়ি (বা মই) কোনোভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। সকালে ওই সিঁড়ি স্পর্শ করতেই প্রথমে আশা খাতুন ও তার মেয়ে মিম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের ছটফট করতে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান হাসিনা বেগম। কিন্তু তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে স্থানীয়দের আরেকটি বর্ণনায় জানা যায়, প্রথমে হাসিনা বেগম লোহার সিঁড়িতে হাত দিলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে বাঁচাতে গিয়ে আশা খাতুন ও মিমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমে। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টির কারণে বাড়ির ভেতরে থাকা লোহার সিঁড়িটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। অসাবধানতাবশত সেটি স্পর্শ করায় একে একে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতির একটি টিম মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছেন। এ বিষয়ে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ফজলুর রহমান জানান বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। তাদের টিম বারঘেরিয়া থেকে ফিরে আসলে প্রকৃত রহস্য বুঝা যাবে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোঃ জঙ্গি বলেন বিষয়টি ভীষণ দুঃখ জনক। আমাদের পক্ষ থেকে ঐ পরিবার কে আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে জানান। পাশাপাশি জেলার বিদ্যুৎ ব্যবহার কারি দের সতর্ক ভাবে বিদ্যুৎ ব্যাবহারের আহবান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন