সাবেক যুবলীগ নেতা ও শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র বাচ্চু বেপারীকে ঘিরে আবারও সরগরম শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ও পরিবহন অঙ্গন। বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবাস, জামিনে মুক্তি, রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন এবং এরপর জেলার পরিবহন মালিকদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসা—সব মিলিয়ে তার উত্থানকে স্থানীয়দের কেউ কেউ রূপক অর্থে বলছেন, ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো ঘটনা।
তবে এই উত্থানের পাশাপাশি বাচ্চু বেপারী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পরিবহন খাতে একক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা আদায়, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার একাধিক গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বাচ্চু বেপারী কারামুক্ত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন. এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন সংগঠনের নেতৃত্বে বাচ্চু
শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সংগঠনের নির্বাচনে বাচ্চু বেপারীর নেতৃত্বে উঠে আসা তার প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সংগঠনের নির্বাচনে ১৩৭ জন সাধারণ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২১টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচিতদের মধ্যে বাচ্চু বেপারী ছাড়াও সরদার এ.কে.এম নাসির উদ্দিন, মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার, ফারুক আহাম্মদ তালুকদার, মো. নাসির উদ্দিন বেপারী, মো. মহসিন মাতুব্বর, মো. রাকিবুজ্জামান খান, মো. শাহিন মোল্লা, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মিলন জমাদ্দার, আ. জব্বার খান, মো. আতাউর রহমান খান (গগন), মো. শাহীন মাদবর, মো. শাখাওয়াত হোসেন (সোলায়মান), মো. শহর আলী, মো. ইউনুছ আলী টেপা, এনামুল হক, আব্দুল মুকিত মোল্লা, মাহবুব আলম তালুকদার, সুলতান মুন্সী ও মো. দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের নাম রয়েছে।
বাসপ্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, শরীয়তপুর থেকে ঢাকা ও অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাস থেকে বিভিন্ন খাতে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থের পরিমাণ সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
তাদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা বকেয়া হলে সংশ্লিষ্ট বাসের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া, মালিক ও শ্রমিকদের চাপ দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে।
এরই মধ্যে চাঁদার বকেয়া নিয়ে শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক পরিবহন শ্রমিককে প্রকাশ্যে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু বেপারী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি বাসস্ট্যান্ডের ব্যস্ত এলাকায় সংঘটিত হলেও আতঙ্কের কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ
পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে পরিবহন খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আরও গুরুতরভাবে, কিছু অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে পরিবহন খাত থেকে আদায় করা অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের কাছে পৌঁছায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এত দ্রুত কীভাবে বদলে গেল তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক
অন্যদিকে তার সমর্থকদের বক্তব্য, পরিবহন মালিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে আসায় তার সাংগঠনিক অবস্থানের গণতান্ত্রিক ভিত্তি রয়েছ
বিষয় : বাচ্চু বেপারী শরীয়তপুর আলাদিনের চেরাগ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
সাবেক যুবলীগ নেতা ও শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র বাচ্চু বেপারীকে ঘিরে আবারও সরগরম শরীয়তপুরের রাজনৈতিক ও পরিবহন অঙ্গন। বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবাস, জামিনে মুক্তি, রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন এবং এরপর জেলার পরিবহন মালিকদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসা—সব মিলিয়ে তার উত্থানকে স্থানীয়দের কেউ কেউ রূপক অর্থে বলছেন, ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো ঘটনা।
তবে এই উত্থানের পাশাপাশি বাচ্চু বেপারী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পরিবহন খাতে একক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা আদায়, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার একাধিক গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বাচ্চু বেপারী কারামুক্ত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন. এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন সংগঠনের নেতৃত্বে বাচ্চু
শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সংগঠনের নির্বাচনে বাচ্চু বেপারীর নেতৃত্বে উঠে আসা তার প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সংগঠনের নির্বাচনে ১৩৭ জন সাধারণ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২১টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচিতদের মধ্যে বাচ্চু বেপারী ছাড়াও সরদার এ.কে.এম নাসির উদ্দিন, মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার, ফারুক আহাম্মদ তালুকদার, মো. নাসির উদ্দিন বেপারী, মো. মহসিন মাতুব্বর, মো. রাকিবুজ্জামান খান, মো. শাহিন মোল্লা, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মিলন জমাদ্দার, আ. জব্বার খান, মো. আতাউর রহমান খান (গগন), মো. শাহীন মাদবর, মো. শাখাওয়াত হোসেন (সোলায়মান), মো. শহর আলী, মো. ইউনুছ আলী টেপা, এনামুল হক, আব্দুল মুকিত মোল্লা, মাহবুব আলম তালুকদার, সুলতান মুন্সী ও মো. দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের নাম রয়েছে।
বাসপ্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, শরীয়তপুর থেকে ঢাকা ও অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাস থেকে বিভিন্ন খাতে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থের পরিমাণ সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
তাদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা বকেয়া হলে সংশ্লিষ্ট বাসের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া, মালিক ও শ্রমিকদের চাপ দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে।
এরই মধ্যে চাঁদার বকেয়া নিয়ে শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক পরিবহন শ্রমিককে প্রকাশ্যে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু বেপারী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি বাসস্ট্যান্ডের ব্যস্ত এলাকায় সংঘটিত হলেও আতঙ্কের কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ
পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে পরিবহন খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আরও গুরুতরভাবে, কিছু অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে পরিবহন খাত থেকে আদায় করা অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের কাছে পৌঁছায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এত দ্রুত কীভাবে বদলে গেল তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক
অন্যদিকে তার সমর্থকদের বক্তব্য, পরিবহন মালিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে আসায় তার সাংগঠনিক অবস্থানের গণতান্ত্রিক ভিত্তি রয়েছ

আপনার মতামত লিখুন