ঢাকার কণ্ঠ

দুই হাতে দুই পিস্তল! কে এই ‘গলাকাটা মোবারক’?

দুই হাতে দুই পিস্তল! কে এই ‘গলাকাটা মোবারক’?

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে একটি সশস্ত্র অপরাধী চক্রের শুটার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে বিদেশি তৈরি পিস্তল ও রিভলবারও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য, মোবারক বড় সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পুলিশের দাবি, একটি কিলিং স্কোয়াডে তাকে শুটার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এমনকি দুই হাতে একসঙ্গে অস্ত্র চালাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায়ও মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা কয়েকজনের মধ্যে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ছাড়া ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সারোয়ার বাবলা হত্যা মামলাতেও মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে জেলা পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়গুলো তদন্তাধীন।

গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার পৃথক দুই মামলায় মোবারকসহ চারজনের প্রত্যেককে চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং বিভিন্ন অপরাধে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে মোবারকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : গলাকাটা মোবারক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুই হাতে দুই পিস্তল! কে এই ‘গলাকাটা মোবারক’?

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে একটি সশস্ত্র অপরাধী চক্রের শুটার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে বিদেশি তৈরি পিস্তল ও রিভলবারও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য, মোবারক বড় সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পুলিশের দাবি, একটি কিলিং স্কোয়াডে তাকে শুটার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এমনকি দুই হাতে একসঙ্গে অস্ত্র চালাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায়ও মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা কয়েকজনের মধ্যে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ছাড়া ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সারোয়ার বাবলা হত্যা মামলাতেও মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে জেলা পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়গুলো তদন্তাধীন।

গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার পৃথক দুই মামলায় মোবারকসহ চারজনের প্রত্যেককে চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং বিভিন্ন অপরাধে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে মোবারকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত