ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬। ০১:২৫ মিনিট

সরকারি জমিতে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট, উঠছে দখলের অভিযোগ

সরকারি জমিতে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট, উঠছে দখলের অভিযোগ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বাতিলকৃত সরকারি প্লটের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকার সরকারি জমি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোনের জমিগুলোর একটি অংশ অতীতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শর্ত ভঙ্গসহ বিভিন্ন কারণে একাধিক প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সরকার জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাতিলকৃত এসব প্লট নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলেছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে হাঁড়ি কর্তৃপক্ষ। 

অভিযোগ রয়েছে, সুগন্ধা পয়েন্টে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের আশপাশের সরকারি জমি বিভিন্ন সময়ে দখলের চেষ্টা হয়েছে। ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও অভিযোগ রয়েছে বিচ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাঁড়ি নামের এই অবৈধ প্রতিষ্ঠান বিদ্যামান রয়েছে। 

তথসূত্রে ২০২৬ সালের আগস্টে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক সরকারি জমি দখলের অভিযোগ  হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির দাগ, খতিয়ান, সীমানা এবং রেস্টুরেন্টের বৈধ অনুমোদনের বিষয়টি সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি জমি যদি সত্যিই বাতিলকৃত প্লটের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক স্থাপনা কীভাবে টিকে আছে? কার অনুমতি বা কোন নথির ভিত্তিতে রেস্টুরেন্টটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহলের দাবি, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিনে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দাগ-খতিয়ান, বরাদ্দ বাতিলের নথি, ভূমির বর্তমান শ্রেণি এবং রেস্টুরেন্টের অনুমোদন যাচাই করা। সরকারি জমি দখলের অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈধতা থাকলে তার নথি প্রকাশ করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা জরুরি।

বাতিলকৃত সরকারি প্লট হলে সেখানে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এবং এর পেছনে কার অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে?

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:আ:মান্নান জানিয়েছেন, সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি জমিতে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট, উঠছে দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বাতিলকৃত সরকারি প্লটের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকার সরকারি জমি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোনের জমিগুলোর একটি অংশ অতীতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শর্ত ভঙ্গসহ বিভিন্ন কারণে একাধিক প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সরকার জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাতিলকৃত এসব প্লট নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলেছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে হাঁড়ি কর্তৃপক্ষ। 

অভিযোগ রয়েছে, সুগন্ধা পয়েন্টে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের আশপাশের সরকারি জমি বিভিন্ন সময়ে দখলের চেষ্টা হয়েছে। ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও অভিযোগ রয়েছে বিচ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাঁড়ি নামের এই অবৈধ প্রতিষ্ঠান বিদ্যামান রয়েছে। 

তথসূত্রে ২০২৬ সালের আগস্টে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক সরকারি জমি দখলের অভিযোগ  হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির দাগ, খতিয়ান, সীমানা এবং রেস্টুরেন্টের বৈধ অনুমোদনের বিষয়টি সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি জমি যদি সত্যিই বাতিলকৃত প্লটের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক স্থাপনা কীভাবে টিকে আছে? কার অনুমতি বা কোন নথির ভিত্তিতে রেস্টুরেন্টটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহলের দাবি, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিনে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দাগ-খতিয়ান, বরাদ্দ বাতিলের নথি, ভূমির বর্তমান শ্রেণি এবং রেস্টুরেন্টের অনুমোদন যাচাই করা। সরকারি জমি দখলের অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈধতা থাকলে তার নথি প্রকাশ করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা জরুরি।

বাতিলকৃত সরকারি প্লট হলে সেখানে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এবং এর পেছনে কার অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে?

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:আ:মান্নান জানিয়েছেন, সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত