মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণের ঘটনায় অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের ওপরে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পিভিএম অয়েলের বিশ্লেষক তামাস ভার্গার মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সৌদি আরবে হামলা, মার্কিন কূটনীতিকদের সরানোর উদ্যোগ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারিও বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
সামনে তেলের দাম কোন দিকে?
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ, উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ এবং বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের ওপরও ভবিষ্যৎ দর নির্ভর করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই কোনো দেশে তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা জ্বালানির দাম বাড়বে এমন নয়; স্থানীয় মূল্য নির্ধারণে সরকারি নীতি, কর, ভর্তুকি ও বিনিময় হারও ভূমিকা রাখে।
বিষয় : তেলের দাম

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণের ঘটনায় অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের ওপরে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পিভিএম অয়েলের বিশ্লেষক তামাস ভার্গার মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সৌদি আরবে হামলা, মার্কিন কূটনীতিকদের সরানোর উদ্যোগ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারিও বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
সামনে তেলের দাম কোন দিকে?
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ, উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ এবং বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের ওপরও ভবিষ্যৎ দর নির্ভর করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই কোনো দেশে তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা জ্বালানির দাম বাড়বে এমন নয়; স্থানীয় মূল্য নির্ধারণে সরকারি নীতি, কর, ভর্তুকি ও বিনিময় হারও ভূমিকা রাখে।

আপনার মতামত লিখুন