ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬। ১১:১৯ মিনিট

জবিতে পিএইচডি সেমিনার জোরদার, শিক্ষা-গবেষণায় অগ্রাধিকার

জবিতে পিএইচডি সেমিনার জোরদার, শিক্ষা-গবেষণায় অগ্রাধিকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার সেমিনারসমূহ এখন থেকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত পরিসরে আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনুষ্ঠিত পিএইচডি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে বিভাগের তিনজন পিএইচডি গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আরও বলেন, এসব সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হয়। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে গবেষকরা অধিকতর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, আজ উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নবিষয়ক গবেষণা বিশেষভাবে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাস্তব উপকার লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি শয়তানের প্ররোচনা ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত থাকতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার চর্চা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনামাফিক রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ যাতে কেউ ব্যাহত করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সেমিনারে প্রথম গবেষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশ মাইক্রোফাইন্যান্স ও ক্যাশ ওয়াকফের সমন্বিত মডেল: নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল।

দ্বিতীয় গবেষক মোহাম্মদ ইসমাইল ‘পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে বাংলাদেশে আইনি কাঠামোয় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি: ইসলামি নির্দেশনার আলোকে একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ব্যারিস্টার আহমদ ইহসানুল কবীর।

তৃতীয় গবেষক মোহাম্মদ আবু নোমান ‘সূরা আন নূরে বর্ণিত সামাজিক বিধানাবলী: তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআনের আলোকে একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ।

আলোচকবৃন্দ গবেষণাপত্রসমূহ আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমালোচনা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, উপাচার্য মহোদয় স্বয়ং উক্ত তিনজন পিএইচডি গবেষকের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, গবেষণা কারও একার সম্পত্তি নয়; গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদে পরিণত করতে হবে। এ মর্যাদায় উন্নীত করতে গবেষকদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নূরুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের গবেষণা উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জবি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জবিতে পিএইচডি সেমিনার জোরদার, শিক্ষা-গবেষণায় অগ্রাধিকার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার সেমিনারসমূহ এখন থেকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত পরিসরে আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনুষ্ঠিত পিএইচডি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে বিভাগের তিনজন পিএইচডি গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আরও বলেন, এসব সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হয়। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে গবেষকরা অধিকতর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, আজ উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নবিষয়ক গবেষণা বিশেষভাবে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাস্তব উপকার লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি শয়তানের প্ররোচনা ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত থাকতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার চর্চা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনামাফিক রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ যাতে কেউ ব্যাহত করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সেমিনারে প্রথম গবেষক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশ মাইক্রোফাইন্যান্স ও ক্যাশ ওয়াকফের সমন্বিত মডেল: নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল।

দ্বিতীয় গবেষক মোহাম্মদ ইসমাইল ‘পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে বাংলাদেশে আইনি কাঠামোয় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি: ইসলামি নির্দেশনার আলোকে একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ব্যারিস্টার আহমদ ইহসানুল কবীর।

তৃতীয় গবেষক মোহাম্মদ আবু নোমান ‘সূরা আন নূরে বর্ণিত সামাজিক বিধানাবলী: তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআনের আলোকে একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ।

আলোচকবৃন্দ গবেষণাপত্রসমূহ আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমালোচনা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, উপাচার্য মহোদয় স্বয়ং উক্ত তিনজন পিএইচডি গবেষকের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, গবেষণা কারও একার সম্পত্তি নয়; গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদে পরিণত করতে হবে। এ মর্যাদায় উন্নীত করতে গবেষকদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নূরুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের গবেষণা উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত