ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ । ১১:৫৬ মিনিট

শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় ডাকসুর ‘ওয়াক আউট’ 

শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় ডাকসুর ‘ওয়াক আউট’ 
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রসিডিওর অনুসরণ করে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর ঘোষণা দিলে প্রতিবাদ জানিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচ সদস্য। তারা ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য।

গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সভার চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সিন্ডিকেট থেকে সিনেটে পাঠানো একটি প্রস্তাব পড়ে শোনান। প্রস্তাবে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে 'ওসমান হাদী হল', বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম 'বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা হল', সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম 'শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল', রাসেল টাওয়ারের নাম 'অফিসার্স টাওয়ার' এবং বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের নাম 'শহীদ মিনার টাওয়ার' করার প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়।

উপাচার্য জানান, সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ, হল সংসদ, কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা প্রস্তাবটি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটে উপস্থাপনের জন্য পাঠায়। এ সময় সিনেট সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানতে চান, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিন্ডিকেট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না।

জবাবে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট কেবল প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠিয়েছে; এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেনি। এসময় অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘ নয় বছর একটানা সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও কাজ করেছি। সিনেটে  শুধু অনুমোদনের জন্য আসে, সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় সিন্ডিকেটে। সুতরাং এ প্রস্তাবটি প্রসিডিওর অনুসরণ করে আসতে হবে। যেকোনো ধরনের পরিবর্তন সিন্ডিকেট থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত সুপারিশ আকারে আসবে, আমরা সেটা অনুমোদন দিব। এক্ষেত্রে অধ্যাপক লুৎফর রহমান নিয়ম মোতাবেক কোন সিদ্ধান্ত সিনেটে আসার আগে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদনের জন্য আহ্বান জানান।

এসময় সিনেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হলগুলো বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান হল তো আশির দশকে নামকরণ করা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের পাশেই। পাশাপাশি দুটো হল এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাসের অংশ হওয়া একটা বিষয়কে এত আলোচনাহীনভাবে বদলানো যায় না, এটা খারাপ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের দৃষ্টান্ত অন্যান্য বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োগ হয়েছে, এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ভূমিকা সারাজীবন আমরা দেখে এসেছি সেই ভূমিকাটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাখা প্রয়োজন। তবে সিনেটেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও  জিএস এস এম ফরহাদ। 

বিষয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেখ পরিবারের ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় ডাকসুর ‘ওয়াক আউট’ 

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রসিডিওর অনুসরণ করে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর ঘোষণা দিলে প্রতিবাদ জানিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচ সদস্য। তারা ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য।

গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সভার চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সিন্ডিকেট থেকে সিনেটে পাঠানো একটি প্রস্তাব পড়ে শোনান। প্রস্তাবে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে 'ওসমান হাদী হল', বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম 'বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা হল', সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম 'শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল', রাসেল টাওয়ারের নাম 'অফিসার্স টাওয়ার' এবং বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের নাম 'শহীদ মিনার টাওয়ার' করার প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়।

উপাচার্য জানান, সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ, হল সংসদ, কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা প্রস্তাবটি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটে উপস্থাপনের জন্য পাঠায়। এ সময় সিনেট সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানতে চান, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিন্ডিকেট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না।

জবাবে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট কেবল প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠিয়েছে; এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেনি। এসময় অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘ নয় বছর একটানা সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও কাজ করেছি। সিনেটে  শুধু অনুমোদনের জন্য আসে, সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় সিন্ডিকেটে। সুতরাং এ প্রস্তাবটি প্রসিডিওর অনুসরণ করে আসতে হবে। যেকোনো ধরনের পরিবর্তন সিন্ডিকেট থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত সুপারিশ আকারে আসবে, আমরা সেটা অনুমোদন দিব। এক্ষেত্রে অধ্যাপক লুৎফর রহমান নিয়ম মোতাবেক কোন সিদ্ধান্ত সিনেটে আসার আগে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদনের জন্য আহ্বান জানান।

এসময় সিনেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হলগুলো বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান হল তো আশির দশকে নামকরণ করা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের পাশেই। পাশাপাশি দুটো হল এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাসের অংশ হওয়া একটা বিষয়কে এত আলোচনাহীনভাবে বদলানো যায় না, এটা খারাপ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের দৃষ্টান্ত অন্যান্য বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োগ হয়েছে, এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ভূমিকা সারাজীবন আমরা দেখে এসেছি সেই ভূমিকাটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাখা প্রয়োজন। তবে সিনেটেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও  জিএস এস এম ফরহাদ। 


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত