ঢাকার কণ্ঠ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অভিন্ন বেতন কাঠামোর দাবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অভিন্ন বেতন কাঠামোর দাবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অভিন্ন সার্ভিস রুলস, পদবিন্যাস ও বেতন কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।একই সঙ্গে ব্যাংকটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র ও কর্ম পরিচয় পত্র দেওয়ারও দাবি জানান তারা।সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলেও এখনো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র ও কর্মপরিচয়পত্র পাননি। এতে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।স্মারক লিপিতে বলা হয়, একজন কর্মীকে নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র, কর্মপরিচয়পত্র, নির্ধারিত পদবি এবং অভিন্ন চাকরির কাঠামোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের ownership, commitment ও confidence তৈরির বিষয়টিও জড়িত। অভিন্ন পরিচয় ও সুসংগঠিত চাকরির কাঠামো থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কাছে আরও দৃঢ়ভাবে ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একীভূত হওয়ার আগে পাঁচটি ব্যাংকের পৃথক সার্ভিস রুলস, পদবি ও বেতন কাঠামোর প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে একই বা সমমানের পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও চাকরিগত সুবিধায় পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘদিন এ ধরনের অসামঞ্জস্য বহাল থাকলে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং অভিন্ন সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে।

তবে স্মারকলিপিতে স্বীকার করা হয়েছে, একটি বৃহৎ একীভূত ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ Integration একটি জটিল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আইটি ইন্টিগ্রেশন, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনসহ বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে মানব সম্পদ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ইন্টিগ্রেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন নেই বলে তারা মনে করেন।

স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, চাকরির কাঠামো এবং বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর করতে চারটি বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।প্রথম দাবিতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে Appointment Letter ও Employee ID Card দিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় দাবিতে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার আলোকে অভিন্ন Service Rules প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ ও যৌক্তিক Designation Mapping দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।তৃতীয় দাবিতে অভিন্ন পদ ও গ্রেডের ভিত্তিতে Unified Salary Structure প্রণয়ন ও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। একই বা সমমানের পদে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের কারণে বিদ্যমান বেতন ব্যবধানের বিষয়ে নীতিসংগত ও যথোপযুক্ত সমাধান নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

চতুর্থ দাবিতে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, নির্ধারিত সময়সীমা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করার দাবি জানানো হয়েছে।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, একটি ব্যাংকের প্রকৃত একীভূতকরণ শুধু আইটি, সিবিএস বা অন্যান্য কারিগরি অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। কর্মীদের অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, পদমর্যাদা, চাকরিবিধি ও বেতন কাঠামোর সমন্বয়ও একীভূতকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব কাঠামো কার্যকর হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক ownership, আস্থা ও কর্মোদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

স্মারকলিপির শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রত্যাশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন—‘এক প্রতিষ্ঠান, এক পরিচয়, এক পদকাঠামো এবং স্বচ্ছ ও সমন্বিত বেতন কাঠামো’। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অভিন্ন বেতন কাঠামোর দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অভিন্ন সার্ভিস রুলস, পদবিন্যাস ও বেতন কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।একই সঙ্গে ব্যাংকটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র ও কর্ম পরিচয় পত্র দেওয়ারও দাবি জানান তারা।সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলেও এখনো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র ও কর্মপরিচয়পত্র পাননি। এতে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।স্মারক লিপিতে বলা হয়, একজন কর্মীকে নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র, কর্মপরিচয়পত্র, নির্ধারিত পদবি এবং অভিন্ন চাকরির কাঠামোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের ownership, commitment ও confidence তৈরির বিষয়টিও জড়িত। অভিন্ন পরিচয় ও সুসংগঠিত চাকরির কাঠামো থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কাছে আরও দৃঢ়ভাবে ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একীভূত হওয়ার আগে পাঁচটি ব্যাংকের পৃথক সার্ভিস রুলস, পদবি ও বেতন কাঠামোর প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে একই বা সমমানের পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও চাকরিগত সুবিধায় পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘদিন এ ধরনের অসামঞ্জস্য বহাল থাকলে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং অভিন্ন সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে।

তবে স্মারকলিপিতে স্বীকার করা হয়েছে, একটি বৃহৎ একীভূত ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ Integration একটি জটিল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আইটি ইন্টিগ্রেশন, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনসহ বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে মানব সম্পদ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ইন্টিগ্রেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন নেই বলে তারা মনে করেন।

স্মারকলিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, চাকরির কাঠামো এবং বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর করতে চারটি বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।প্রথম দাবিতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে Appointment Letter ও Employee ID Card দিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় দাবিতে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার আলোকে অভিন্ন Service Rules প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ ও যৌক্তিক Designation Mapping দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।তৃতীয় দাবিতে অভিন্ন পদ ও গ্রেডের ভিত্তিতে Unified Salary Structure প্রণয়ন ও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। একই বা সমমানের পদে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের কারণে বিদ্যমান বেতন ব্যবধানের বিষয়ে নীতিসংগত ও যথোপযুক্ত সমাধান নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

চতুর্থ দাবিতে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, নির্ধারিত সময়সীমা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করার দাবি জানানো হয়েছে।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, একটি ব্যাংকের প্রকৃত একীভূতকরণ শুধু আইটি, সিবিএস বা অন্যান্য কারিগরি অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। কর্মীদের অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, পদমর্যাদা, চাকরিবিধি ও বেতন কাঠামোর সমন্বয়ও একীভূতকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব কাঠামো কার্যকর হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক ownership, আস্থা ও কর্মোদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

স্মারকলিপির শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রত্যাশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন—‘এক প্রতিষ্ঠান, এক পরিচয়, এক পদকাঠামো এবং স্বচ্ছ ও সমন্বিত বেতন কাঠামো’। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত