মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রথম নিজস্ব চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোসফিয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি চন্দ্র অনুসন্ধান ও মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের জিন্নাহ-১ চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। রোভারটি চাঁদের ভূপ্রকৃতি, পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য এবং মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রোভারটির এআই-ভিত্তিক স্টেরিও ইমেজিং ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে বাধা শনাক্ত ও নিজস্ব চলাচলের পথ নির্ধারণের সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।
পাকিস্তান এরই মধ্যে চীনের চাং’ই-৬ মিশনের অংশ হিসেবে আইকিউব-কামার চন্দ্র স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপিত ওই মিশনের মাধ্যমে পাকিস্তানের চন্দ্র অনুসন্ধান কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়।
এদিকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণেও দেশটির সক্ষমতা বাড়ছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক দূর অনুধাবন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, পানিসম্পদ, পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তথ্য ব্যবহার করছে পাকিস্তান। বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এসব ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ডেটার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। জিশান আলী ও খুররম দাউদ বর্তমানে বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুজনের চূড়ান্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে হতে পারে। প্রশিক্ষণের মধ্যে চীনা ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা, মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে কাজ এবং উৎক্ষেপণের সময় উচ্চমাত্রার মাধ্যাকর্ষণজনিত চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে।
নির্বাচিত মহাকাশচারী তিয়ানগংয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবেন। পাকিস্তানের এ কর্মসূচি চীনের সঙ্গে দেশটির বৃহত্তর মহাকাশ সহযোগিতার অংশ, যার মধ্যে স্যাটেলাইট, চন্দ্র অনুসন্ধান এবং মানব মহাকাশযাত্রা সবই রয়েছে।
বিষয় : ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদের পথে

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রথম নিজস্ব চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোসফিয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি চন্দ্র অনুসন্ধান ও মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের জিন্নাহ-১ চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। রোভারটি চাঁদের ভূপ্রকৃতি, পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য এবং মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রোভারটির এআই-ভিত্তিক স্টেরিও ইমেজিং ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে বাধা শনাক্ত ও নিজস্ব চলাচলের পথ নির্ধারণের সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।
পাকিস্তান এরই মধ্যে চীনের চাং’ই-৬ মিশনের অংশ হিসেবে আইকিউব-কামার চন্দ্র স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপিত ওই মিশনের মাধ্যমে পাকিস্তানের চন্দ্র অনুসন্ধান কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়।
এদিকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণেও দেশটির সক্ষমতা বাড়ছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক দূর অনুধাবন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, পানিসম্পদ, পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তথ্য ব্যবহার করছে পাকিস্তান। বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এসব ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ডেটার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। জিশান আলী ও খুররম দাউদ বর্তমানে বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুজনের চূড়ান্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে হতে পারে। প্রশিক্ষণের মধ্যে চীনা ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা, মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে কাজ এবং উৎক্ষেপণের সময় উচ্চমাত্রার মাধ্যাকর্ষণজনিত চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে।
নির্বাচিত মহাকাশচারী তিয়ানগংয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবেন। পাকিস্তানের এ কর্মসূচি চীনের সঙ্গে দেশটির বৃহত্তর মহাকাশ সহযোগিতার অংশ, যার মধ্যে স্যাটেলাইট, চন্দ্র অনুসন্ধান এবং মানব মহাকাশযাত্রা সবই রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন