চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রুদুরা গ্রামে ১৫ বছর বয়সী বৌদ্ধ কিশোর রাজীব বড়ুয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ও পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ জুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ২২ জুন পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে তার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজীব রুদুরা গ্রামের বাসিন্দা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। স্থানীয় বড়ুয়া সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেও সে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। তার মৃত্যু ঘিরে ধর্মীয় বিদ্বেষ, পূর্বের হামলা এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ মে সন্ধ্যায় রুদুরা গ্রামে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় স্থাপনায় আগুন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৬ মে রাজীব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিবাদী পোস্ট দেয়। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
এর পরদিন ১৭ মে রাজীবের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাবা-মাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় রাজীব আহত হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ছিল রাজীব। পরে সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে ভারতে অবস্থান নেয় বলে জানা গেছে। ওই সময় তার পরিবারের দাবি আবারও তার বিরুদ্ধে আক্রমণের ভয়ে এই হামলার ঘটনার কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রায় এক বছর পর রাজীব বাংলাদেশে ফিরে নিজ বাড়ি রুদুরায় অবস্থান শুরু করে এই ভেবে যে, তার জীবনের ঝুঁকি আর নেই। কিন্তু তিনি দেশে ফেরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও তাকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যেই গত ২০ জুন কয়েকজন ব্যক্তি রাজীবকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর স্বজনরা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান তবে পরিবারের অভিযোগ পুলিশ এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেননি এবং তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান চালানো হয়নি। দুই দিন পর ২২ জুন স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় দড়ি বাঁধার মতো দাগ ছিল বলে জানা গেছে। তবে এসব চিহ্নের প্রকৃতি এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজীবকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এর আগে হামলার ঘটনা এবং এবার কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠেছে।
পরিবারের এক আত্মীয় জানান, রাজীবের ওপর আগেও হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছিল। দেশে ফিরে আসার পর তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে, তা তারা ভাবতে পারেননি। এখন তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চান এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রত্যাশা করছেন।
রাজীবকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অতীতের হামলার ঘটনাতেও একই ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজীবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর তার স্বজনদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রাম ছেড়ে না গেলে পরিবারের সদস্যদেরও রাজীবের মতো পরিণতি হতে পারে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত না হলে এলাকায় আরও আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। রাজীবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে । ২০২৫ সালের হামলার অভিযোগ, রাজীবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, দেশে ফিরে আসা, ২০ জুন তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং ২২ জুন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
রাজীব বড়ুয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে কিশোর রাজীবের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রুদুরা গ্রামে ১৫ বছর বয়সী বৌদ্ধ কিশোর রাজীব বড়ুয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ও পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ জুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ২২ জুন পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে তার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজীব রুদুরা গ্রামের বাসিন্দা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। স্থানীয় বড়ুয়া সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেও সে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। তার মৃত্যু ঘিরে ধর্মীয় বিদ্বেষ, পূর্বের হামলা এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ মে সন্ধ্যায় রুদুরা গ্রামে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় স্থাপনায় আগুন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৬ মে রাজীব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতিবাদী পোস্ট দেয়। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
এর পরদিন ১৭ মে রাজীবের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাবা-মাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় রাজীব আহত হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ছিল রাজীব। পরে সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে ভারতে অবস্থান নেয় বলে জানা গেছে। ওই সময় তার পরিবারের দাবি আবারও তার বিরুদ্ধে আক্রমণের ভয়ে এই হামলার ঘটনার কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রায় এক বছর পর রাজীব বাংলাদেশে ফিরে নিজ বাড়ি রুদুরায় অবস্থান শুরু করে এই ভেবে যে, তার জীবনের ঝুঁকি আর নেই। কিন্তু তিনি দেশে ফেরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও তাকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যেই গত ২০ জুন কয়েকজন ব্যক্তি রাজীবকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর স্বজনরা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান তবে পরিবারের অভিযোগ পুলিশ এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেননি এবং তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান চালানো হয়নি। দুই দিন পর ২২ জুন স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় দড়ি বাঁধার মতো দাগ ছিল বলে জানা গেছে। তবে এসব চিহ্নের প্রকৃতি এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজীবকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এর আগে হামলার ঘটনা এবং এবার কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠেছে।
পরিবারের এক আত্মীয় জানান, রাজীবের ওপর আগেও হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছিল। দেশে ফিরে আসার পর তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে, তা তারা ভাবতে পারেননি। এখন তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চান এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রত্যাশা করছেন।
রাজীবকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অতীতের হামলার ঘটনাতেও একই ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজীবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর তার স্বজনদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রাম ছেড়ে না গেলে পরিবারের সদস্যদেরও রাজীবের মতো পরিণতি হতে পারে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত না হলে এলাকায় আরও আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। রাজীবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে । ২০২৫ সালের হামলার অভিযোগ, রাজীবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, দেশে ফিরে আসা, ২০ জুন তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং ২২ জুন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
রাজীব বড়ুয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে কিশোর রাজীবের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন