ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬। ০২:১৪ মিনিট

প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ আন্তর্জাতিক সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাস করে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া কৃষি, পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এমন একটি এলাকায় পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে এবং পারস্পরিক সুবিধা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। 

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গোপসাগর প্যান প্যাসিফিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ আন্তর্জাতিক সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাস করে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া কৃষি, পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এমন একটি এলাকায় পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে এবং পারস্পরিক সুবিধা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। 


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত