ঢাকার কণ্ঠ

কেরানীগঞ্জে ভয়াবহ ডাবল মার্ডার: ২১ দিন লাশ লুকিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস!

কেরানীগঞ্জে ভয়াবহ ডাবল মার্ডার: ২১ দিন লাশ লুকিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস!
নিহত স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটল এক ভয়াবহ দ্বৈত হত্যাকাণ্ড—মা ও মেয়েকে হত্যা করে টানা ২১ দিন নিজ ফ্ল্যাটে লাশ লুকিয়ে রেখেই পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন অভিযুক্তরা।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীম নামে এক শিক্ষিকার ভাড়া বাসা থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং মীমের ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার পর দীর্ঘ ২১ দিন ধরে ওই মা-মেয়ের লাশ ফ্ল্যাটের ভেতর রেখেই তারা সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করেন তিনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্তৃপক্ষ রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে নুসরাত ও রোকেয়ার মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য ও বাকবিতণ্ডা হয়।

ওসি জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ১৫ বছর বয়সী ছোট বোনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোরী ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হন নুসরাতের বোন—যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয়, ফাতেমা নিজেই বাসা থেকে চলে গেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান নুসরাত। এরপর রোকেয়া মেয়েকে নিতে নুসরাতের বাসায় গেলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে তার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নুসরাত ও তার ছোট বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকে হত্যা করেন।

ওসি আরও জানান, হত্যার পর রোকেয়ার লাশ নুসরাতের শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। দুটি মরদেহ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত দুই বোন ও তাদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিষয় : কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ের লাশ কেরানীগঞ্জে ২১ দিন মা-মেয়ে কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে হত্যা কেরানীগঞ্জ ডাবল মার্ডার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে ভয়াবহ ডাবল মার্ডার: ২১ দিন লাশ লুকিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস!

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটল এক ভয়াবহ দ্বৈত হত্যাকাণ্ড—মা ও মেয়েকে হত্যা করে টানা ২১ দিন নিজ ফ্ল্যাটে লাশ লুকিয়ে রেখেই পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন অভিযুক্তরা।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীম নামে এক শিক্ষিকার ভাড়া বাসা থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং মীমের ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার পর দীর্ঘ ২১ দিন ধরে ওই মা-মেয়ের লাশ ফ্ল্যাটের ভেতর রেখেই তারা সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করেন তিনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্তৃপক্ষ রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে নুসরাত ও রোকেয়ার মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য ও বাকবিতণ্ডা হয়।

ওসি জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ১৫ বছর বয়সী ছোট বোনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোরী ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হন নুসরাতের বোন—যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয়, ফাতেমা নিজেই বাসা থেকে চলে গেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান নুসরাত। এরপর রোকেয়া মেয়েকে নিতে নুসরাতের বাসায় গেলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে তার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নুসরাত ও তার ছোট বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকে হত্যা করেন।

ওসি আরও জানান, হত্যার পর রোকেয়ার লাশ নুসরাতের শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। দুটি মরদেহ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত দুই বোন ও তাদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত