ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬। ১২:০৮ মিনিট

১৯৭১ সালের এই দিনে কেরানীগঞ্জে ভয়াল গণহত্যা, স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধা

১৯৭১ সালের এই দিনে কেরানীগঞ্জে ভয়াল গণহত্যা, স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধা

আজ ২ এপ্রিল—কেরানীগঞ্জের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার পাশের জনপদ কেরানীগঞ্জে চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। নির্বিচারে হামলায় নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় পাঁচ হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। দিনটি কেরানীগঞ্জবাসীর কাছে আজও বেদনা ও শোকের স্মৃতি হয়ে আছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় শুরু হওয়া Operation Searchlight-এর পর আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কেরানীগঞ্জে ছুটে আসেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন এখানে হয়তো নিরাপদ থাকা যাবে। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই পরিণত হয় মৃত্যুকূপে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, ২ এপ্রিল কাকডাকা ভোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেরানীগঞ্জে হামলা চালায়। এ সময় জিনজিরা, মন্যু বেপারীরঢাল, নজরগঞ্জ, গোলজারবাগ, মান্দাইল, কুশিয়ারবাগ, বড়িশুর ও মাদারীপুর এলাকাজুড়ে চালানো হয় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। মুহূর্তেই লাশের স্তূপে পরিণত হয় জনপদটি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান জানান, ওইদিনের গণহত্যার পর নজরগঞ্জ কবরস্থানের একটি কবরেই নাম না জানা ৫৪ জনকে দাফন করা হয়েছিল। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন কবরস্থানে একেকটি কবরে ১০ থেকে ১২ জন করে লাশ দাফন করতে হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর একাধিকবার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা তৈরি হলেও ২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে শহীদ হওয়া অনেকের নাম এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বিষয় : কেরানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৯৭১ সালের এই দিনে কেরানীগঞ্জে ভয়াল গণহত্যা, স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধা

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আজ ২ এপ্রিল—কেরানীগঞ্জের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার পাশের জনপদ কেরানীগঞ্জে চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। নির্বিচারে হামলায় নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় পাঁচ হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। দিনটি কেরানীগঞ্জবাসীর কাছে আজও বেদনা ও শোকের স্মৃতি হয়ে আছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় শুরু হওয়া Operation Searchlight-এর পর আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কেরানীগঞ্জে ছুটে আসেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন এখানে হয়তো নিরাপদ থাকা যাবে। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই পরিণত হয় মৃত্যুকূপে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, ২ এপ্রিল কাকডাকা ভোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেরানীগঞ্জে হামলা চালায়। এ সময় জিনজিরা, মন্যু বেপারীরঢাল, নজরগঞ্জ, গোলজারবাগ, মান্দাইল, কুশিয়ারবাগ, বড়িশুর ও মাদারীপুর এলাকাজুড়ে চালানো হয় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। মুহূর্তেই লাশের স্তূপে পরিণত হয় জনপদটি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান জানান, ওইদিনের গণহত্যার পর নজরগঞ্জ কবরস্থানের একটি কবরেই নাম না জানা ৫৪ জনকে দাফন করা হয়েছিল। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন কবরস্থানে একেকটি কবরে ১০ থেকে ১২ জন করে লাশ দাফন করতে হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর একাধিকবার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা তৈরি হলেও ২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে শহীদ হওয়া অনেকের নাম এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত