ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । ০৯:৩৬ মিনিট

তিনবার বরাদ্দের পরও উন্নয়ন হয়নি; খানাখন্দে প্রাণহানির শঙ্কা

কেরানীগঞ্জে ভাগনা-মুক্তিরবাগ সড়ক মৃত্যুফাঁদ, ৩০ বছরেও হয়নি সংস্কার!

কেরানীগঞ্জে ভাগনা-মুক্তিরবাগ সড়ক মৃত্যুফাঁদ, ৩০ বছরেও হয়নি সংস্কার!

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভাগনা থেকে মুক্তিরবাগ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন লাখো মানুষের জন্য কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কদমতলী থেকে শুরু করে কোনাখোলা, কেরানীগঞ্জ উপজেলা সদর, রোহিতপুর, রাজাবাড়ি, আব্দুল্লাহপুর, মুক্তিরবাগ, মদিনানগর, বিলকাঠুরিয়া, গদারবাগ, দোহার-নবাবগঞ্জসহ মাওয়া মহাসড়কের সংযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। ফলে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।


সড়কটিতে চলাচল করা লাখো মানুষের এই দুঃখ দুর্দশা দীর্ঘ বছরের। পথচারী থেকে শুরু করে গাড়িচালক ও স্থানীয় কেউ বলছে পাঁচ বছর কেউ বলছেন ১০ বছর কেউ বা বলছে ৩০ বছরেও সংস্কার হয়নি এই সড়কটি। 

প্রতিবারই সংস্কারের কথা বলে সরকারি ভাবে বরাদ্দ পাওয়ার পর সেই অর্থ চলে যায় বিভিন্ন ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের পকেটে। ভোট চাইতে আশা চেয়ারম্যান মেম্বার এবং রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনী ইশতিহারের আগেও কথা দেয়া হয়েছিল এই সড়ক সংস্কার করা হবে কিন্তু সেটা শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে অভিযোগ সড়কে চলাচল করা প্রতিটি মানুষের। 

সড়কের বিভিন্ন স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ইতোমধ্যে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এই সড়কে।

এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী রিকশাচালক আবুল কালাম আজাদ ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, আমরাও তেমনি কষ্টে আছি। গর্ত আর খানাখন্দের কারণে রিকশা চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যায়। দ্রুত সড়ক সংস্কার ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী সুবর্ণা ও লামিয়া জানায়, প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সড়কটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “এই সড়কের কারণে আমরা অল্প বয়সেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এত মানুষ প্রতিদিন এই পথে চলাচল করছে, কিন্তু কেউ আমাদের কষ্টের দিকে নজর দিচ্ছে না।”

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে কী হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে সড়কের অবস্থা খারাপ হলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, উপজেলার বেশ কিছু সড়কের সংস্কারের বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তথ্য উপাত্ত প্রেরণ করা হয়েছে। জন মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে জনবান্ধব সরকারের নতুন পরিকল্পনায় ভাগনা সড়ক  সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সড়ক সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বিষয় : ইউএনও উমর ফারুক ভাগনা-মুক্তিরবাগ সড়ক মৃত্যুফাঁদ সংস্কার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে ভাগনা-মুক্তিরবাগ সড়ক মৃত্যুফাঁদ, ৩০ বছরেও হয়নি সংস্কার!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভাগনা থেকে মুক্তিরবাগ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন লাখো মানুষের জন্য কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কদমতলী থেকে শুরু করে কোনাখোলা, কেরানীগঞ্জ উপজেলা সদর, রোহিতপুর, রাজাবাড়ি, আব্দুল্লাহপুর, মুক্তিরবাগ, মদিনানগর, বিলকাঠুরিয়া, গদারবাগ, দোহার-নবাবগঞ্জসহ মাওয়া মহাসড়কের সংযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। ফলে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।


সড়কটিতে চলাচল করা লাখো মানুষের এই দুঃখ দুর্দশা দীর্ঘ বছরের। পথচারী থেকে শুরু করে গাড়িচালক ও স্থানীয় কেউ বলছে পাঁচ বছর কেউ বলছেন ১০ বছর কেউ বা বলছে ৩০ বছরেও সংস্কার হয়নি এই সড়কটি। 


প্রতিবারই সংস্কারের কথা বলে সরকারি ভাবে বরাদ্দ পাওয়ার পর সেই অর্থ চলে যায় বিভিন্ন ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের পকেটে। ভোট চাইতে আশা চেয়ারম্যান মেম্বার এবং রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনী ইশতিহারের আগেও কথা দেয়া হয়েছিল এই সড়ক সংস্কার করা হবে কিন্তু সেটা শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে অভিযোগ সড়কে চলাচল করা প্রতিটি মানুষের। 

সড়কের বিভিন্ন স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ইতোমধ্যে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এই সড়কে।

এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী রিকশাচালক আবুল কালাম আজাদ ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, আমরাও তেমনি কষ্টে আছি। গর্ত আর খানাখন্দের কারণে রিকশা চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যায়। দ্রুত সড়ক সংস্কার ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী সুবর্ণা ও লামিয়া জানায়, প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সড়কটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “এই সড়কের কারণে আমরা অল্প বয়সেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এত মানুষ প্রতিদিন এই পথে চলাচল করছে, কিন্তু কেউ আমাদের কষ্টের দিকে নজর দিচ্ছে না।”

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে কী হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে সড়কের অবস্থা খারাপ হলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, উপজেলার বেশ কিছু সড়কের সংস্কারের বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তথ্য উপাত্ত প্রেরণ করা হয়েছে। জন মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে জনবান্ধব সরকারের নতুন পরিকল্পনায় ভাগনা সড়ক  সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সড়ক সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত