ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘেঁষা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ব্লু জিন্স প্যান্ট ও অ্যাশ রঙের ফুলহাতা শার্ট পড়া অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন হাসনাবাদ নৌ পুলিশ। ঢাকার কন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ক্লুলেস লাশের পরিচয় মিলেছে। তবে নিহত পরিবারের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড!
গত ১০ মে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহটি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হলে (১২ মে) মঙ্গলবার তার পরিচয় পাওয়া যায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী নাম ওয়াহেদ কাওকাব ম্যাগনেট (২৩) , পিতা. এ এফ এম শাহ আলম, রাজধানীর মুরাদপুর হাই স্কুল রোড, জুরাইন এলাকার স্থানী বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির সিএসসি ডিপার্টমেন্টের অনার্স পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন নিহতের খালা: ছবি ঢাকার কণ্ঠ
নিহত ওয়াহেদ কাওকাবের পিতা শাহ আলম ঢাকার কণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ধারণা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে যে রহস্যময় ঘটনা তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হুমায়েরা ইয়াসমিন হাবিবা নামে এক মেয়ের সাথে আমার ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় ইউনিভার্সিটিতে। আমরা বিষয়টি মেনেও নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তা নিষেধ করে। পরে জানতে পারি মেয়ের সাথে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ের সবকিছু সম্পূন্ন। একপর্যায়ে আমার ছেলের সাথে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। আমার ছেলে এ বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে ঝগড়া করে চলে যায়। এরপর থেকেই আমার ছেলের খোঁজ খবর আমরা পাইনি। এখন মরদেহ নিয়ে যাচ্ছি মর্গ থেকে। শুনেছি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।
নিহতের বাবা আর অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের সাথে মেয়েটি তার বিয়ের কথা গোপন করে টাইমপাস করেছে। তাই আমার ছেলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। ওই মেয়ে এবং তার স্বামী মিলে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এমনটাই আমাদের ধারণা। গত শুক্রবার থেকে আমার সন্তান নিখোঁজ এ ব্যাপারে আমরা কদমতলী থানা একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আমরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করব।
নিহত ওয়াহেদ কাওকাবের খালা ঢাকার মেডিকেলের মর্গ থেকে লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই মেয়ে হাবিবা একটি বাজে মেয়ে। আমি আমার ভাগিনাকে বহুবার বুঝিয়ে ছিলাম, কিন্তু আমার ভাগিনা তার প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তাকে ছাড়াই সে কিছুই বুঝতো না। মেয়েটি তার বিয়ে এবং স্বামীর কথা গোপন রেখে আমার ভাগিনার সাথে প্রতারণা করেছে। মেয়েটির বাবা বিজিবি সদস্য আমাদের ধারণা আমার ভাগিনা বাসা থেকে বের হয়ে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে ওই হাবিবা এবং তার স্বামী হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটি যদি খারাপ না হতো তাহলে তার বিয়ের কথা গোপন করে আমার ভাগিনাকে গোপনে বিয়ে করতে চাইতো না? মেয়েটি বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করতে বসতে কেন চাইল না। আমার ভাগিনা আমাকে তার ব্যক্তিগত গোপন সম্পর্কের কথা সবকিছুই বলে গিয়েছে। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক ছিল। আমার ভাগিনা নিখোঁজ হওয়ার পরে আমরা একটি চিরকুট পেয়েছি। সেই চিরকুটটি হাবিবাকে উদ্দেশ্য করেই তিনি লিখে গেছেন সে।
এর আগে, গত ১০ মে দুপুর ৩টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার মনির সাহেব ডগ ইয়ার্ড সংলগ্ন বালুর ড্রেজারের পাশে বুড়িগঙ্গা নদীতে অজ্ঞত পরিচয় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশেঐজকর সহযোগিতায় লাশটিকে ময়নাতনদের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন পুলিশ ।
এ বিষয়ে নৌ পুলিশ এসআই আবিদ বলেন, মরদেহটির পরিচয় মিলেছে তিনি ইউলিড ইউনিভার্সিটি'র শিক্ষার্থী। জানতে পেরেছি ছেলেটি একটি সুইসাইড নোট লিখে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে বাসা থেকে চলে যায়। ময়নাতনদের জন্য লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করেছি। ফরেস্টিক রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে এটি কোন হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যা।
নিহতের লাশের বিষয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার (ওসি) তদন্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, মারদেহটি নৌ পুলিশ এসআই আবিদ উদ্ধার করেছে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকলে আইনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘেঁষা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ব্লু জিন্স প্যান্ট ও অ্যাশ রঙের ফুলহাতা শার্ট পড়া অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন হাসনাবাদ নৌ পুলিশ। ঢাকার কন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ক্লুলেস লাশের পরিচয় মিলেছে। তবে নিহত পরিবারের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড!
গত ১০ মে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহটি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হলে (১২ মে) মঙ্গলবার তার পরিচয় পাওয়া যায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী নাম ওয়াহেদ কাওকাব ম্যাগনেট (২৩) , পিতা. এ এফ এম শাহ আলম, রাজধানীর মুরাদপুর হাই স্কুল রোড, জুরাইন এলাকার স্থানী বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির সিএসসি ডিপার্টমেন্টের অনার্স পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন নিহতের খালা: ছবি ঢাকার কণ্ঠ
নিহত ওয়াহেদ কাওকাবের পিতা শাহ আলম ঢাকার কণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ধারণা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে যে রহস্যময় ঘটনা তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হুমায়েরা ইয়াসমিন হাবিবা নামে এক মেয়ের সাথে আমার ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় ইউনিভার্সিটিতে। আমরা বিষয়টি মেনেও নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তা নিষেধ করে। পরে জানতে পারি মেয়ের সাথে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ের সবকিছু সম্পূন্ন। একপর্যায়ে আমার ছেলের সাথে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। আমার ছেলে এ বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে ঝগড়া করে চলে যায়। এরপর থেকেই আমার ছেলের খোঁজ খবর আমরা পাইনি। এখন মরদেহ নিয়ে যাচ্ছি মর্গ থেকে। শুনেছি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।
নিহতের বাবা আর অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের সাথে মেয়েটি তার বিয়ের কথা গোপন করে টাইমপাস করেছে। তাই আমার ছেলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। ওই মেয়ে এবং তার স্বামী মিলে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এমনটাই আমাদের ধারণা। গত শুক্রবার থেকে আমার সন্তান নিখোঁজ এ ব্যাপারে আমরা কদমতলী থানা একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আমরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করব।
নিহত ওয়াহেদ কাওকাবের খালা ঢাকার মেডিকেলের মর্গ থেকে লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই মেয়ে হাবিবা একটি বাজে মেয়ে। আমি আমার ভাগিনাকে বহুবার বুঝিয়ে ছিলাম, কিন্তু আমার ভাগিনা তার প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তাকে ছাড়াই সে কিছুই বুঝতো না। মেয়েটি তার বিয়ে এবং স্বামীর কথা গোপন রেখে আমার ভাগিনার সাথে প্রতারণা করেছে। মেয়েটির বাবা বিজিবি সদস্য আমাদের ধারণা আমার ভাগিনা বাসা থেকে বের হয়ে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে ওই হাবিবা এবং তার স্বামী হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটি যদি খারাপ না হতো তাহলে তার বিয়ের কথা গোপন করে আমার ভাগিনাকে গোপনে বিয়ে করতে চাইতো না? মেয়েটি বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করতে বসতে কেন চাইল না। আমার ভাগিনা আমাকে তার ব্যক্তিগত গোপন সম্পর্কের কথা সবকিছুই বলে গিয়েছে। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক ছিল। আমার ভাগিনা নিখোঁজ হওয়ার পরে আমরা একটি চিরকুট পেয়েছি। সেই চিরকুটটি হাবিবাকে উদ্দেশ্য করেই তিনি লিখে গেছেন সে।
এর আগে, গত ১০ মে দুপুর ৩টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার মনির সাহেব ডগ ইয়ার্ড সংলগ্ন বালুর ড্রেজারের পাশে বুড়িগঙ্গা নদীতে অজ্ঞত পরিচয় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশেঐজকর সহযোগিতায় লাশটিকে ময়নাতনদের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন পুলিশ ।
এ বিষয়ে নৌ পুলিশ এসআই আবিদ বলেন, মরদেহটির পরিচয় মিলেছে তিনি ইউলিড ইউনিভার্সিটি'র শিক্ষার্থী। জানতে পেরেছি ছেলেটি একটি সুইসাইড নোট লিখে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে বাসা থেকে চলে যায়। ময়নাতনদের জন্য লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করেছি। ফরেস্টিক রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে এটি কোন হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যা।
নিহতের লাশের বিষয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার (ওসি) তদন্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, মারদেহটি নৌ পুলিশ এসআই আবিদ উদ্ধার করেছে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকলে আইনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন