ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ০৭ জুন ২০২৬। ০১:২৯ মিনিট

ফুটবল আনতে গিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণী শিক্ষার্থীর মৃত্যু ‌

ফুটবল আনতে গিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণী শিক্ষার্থীর মৃত্যু ‌

কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ফুটবল আনতে গিয়ে ইসমাইল (১২) নামের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে  বন্ধুর সাথে বুড়িগঙ্গা নদীতে আনন্দ করে গোসল করতে নেমেছিল ইসমাইল। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন গোসলের একপর্যায়ে পানিতে ডুব দিয়ে সে আর ভেসে ওঠেনি। বিষয়টি ঘাটে থাকা একজন নৌকার মাঝির নজরে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ ইসমাইলকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও তিনি পানির নিচে শিশুটির কোনো খোঁজ পাননি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ইসমাইলের বাবা ইব্রাহিম, মা ও স্বজনরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে নদীর ঘাটে ছুটে আসেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের একটি দক্ষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরিরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মাত্র ১০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টায় নদী থেকে ইসমাইলের নিথর দেহ উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসেন। ততক্ষণে সব শেষ।

নিহত ইসমাইল তার পরিবারের সাথে কেরানীগঞ্জের গোলজারবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। গুলজারবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। 

এই ঘটনায় ডুবুরি দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স সিদ্দিক বাজার ঢাকার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানায়,  স্থানীয়রা ফোন করে জানিয়েছে কুমির আছে নদীতে, কুমিরের নিয়ে গেছে শিশুটিকে। এটা ভয়ংকর জিনিস আসলে কোন কুমির নাই। নদীতে নামার সাথে সাথেই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। শিশুর মামার কাছে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ঝিত দুর্ঘটনা এড়াতে নদী বা যেকোনো জলাশয়ের আশেপাশে শিশুদের চলাফেরা ও গোসলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক ও নজরদারি বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফুটবল আনতে গিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে পঞ্চম শ্রেণী শিক্ষার্থীর মৃত্যু ‌

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ফুটবল আনতে গিয়ে ইসমাইল (১২) নামের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। 


শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে  বন্ধুর সাথে বুড়িগঙ্গা নদীতে আনন্দ করে গোসল করতে নেমেছিল ইসমাইল। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন গোসলের একপর্যায়ে পানিতে ডুব দিয়ে সে আর ভেসে ওঠেনি। বিষয়টি ঘাটে থাকা একজন নৌকার মাঝির নজরে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ ইসমাইলকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও তিনি পানির নিচে শিশুটির কোনো খোঁজ পাননি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ইসমাইলের বাবা ইব্রাহিম, মা ও স্বজনরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে নদীর ঘাটে ছুটে আসেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের একটি দক্ষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরিরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মাত্র ১০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টায় নদী থেকে ইসমাইলের নিথর দেহ উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসেন। ততক্ষণে সব শেষ।

নিহত ইসমাইল তার পরিবারের সাথে কেরানীগঞ্জের গোলজারবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। গুলজারবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। 

এই ঘটনায় ডুবুরি দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স সিদ্দিক বাজার ঢাকার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানায়,  স্থানীয়রা ফোন করে জানিয়েছে কুমির আছে নদীতে, কুমিরের নিয়ে গেছে শিশুটিকে। এটা ভয়ংকর জিনিস আসলে কোন কুমির নাই। নদীতে নামার সাথে সাথেই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। শিশুর মামার কাছে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ঝিত দুর্ঘটনা এড়াতে নদী বা যেকোনো জলাশয়ের আশেপাশে শিশুদের চলাফেরা ও গোসলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক ও নজরদারি বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত