ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ । ০৬:৫৯ মিনিট

কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ; আহত একাধিক

কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ; আহত একাধিক
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় মাদক বিক্রয় ও সেবনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন্ডা ইউনিয়ন  বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী গুরুত্ব আহত হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, গত ১৪ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণ গাঁও এলাকার খুশি মার্কেট সংলগ্ন বিএনপির পার্টি অফিসে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে একদল হামলাকারী অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছে- হারুন অর রশীদ, মো. মাসুদ রানা ও মো. সাজ্জাদসহ আরও অনেকেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় মাদক বিক্রয় ও সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ হামলা চালায়। তারা বিএনপি অফিসে ঢুকে নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত করে। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আহতদের পরিকল্পনাভাবে হত্যা করা বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের অস্ত্র হাতে অফিসের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। 

তারা আরও দাবি করেন, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কতিপয় আওয়ামী লীগ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। 

বিএনপি নেতা মাসুদ রানা জানান, আমাদের পার্টি অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে কিশোর গ্যাং এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়‌। একারণ আমরা এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশকে নিয়ে অভিযান করেছিলাম। এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

ভুক্তভোগী হারুর অর রশীদ ঢাকার কণ্ঠকে জানান, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় মাদক সেবন এবং বিক্রয় বিষয়ে গ্রামবাসীদের নিয়ে বাধা দেওয়াতে তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় আমি গুরুত্বর আহত হয়ে পড়ি। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি।  

আরেক ভুক্তভোগী সাজ্জাদ বলেন, আমার বাবাকে যখন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করছিল আমি সেখানে গিয়ে বাধা দেয় তারা আমার মাথায় আঘাত করে। এরফলে আমি অজ্ঞান হয়ে যায়।

ওই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আটজন এজাহারনামীয় আসামিসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম ঢাকার কণ্ঠকে জানান, ব্রাহ্মণ গাঁও এলাকার খুশি মার্কেটের সামনে বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকের মতে, মাদককে কেন্দ্র করে এলাকায় মারামারি, সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এদিকে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ঢাকার কণ্ঠ একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের ওই এলাকাতে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।   




বিষয় : কেরানীগঞ্জ মাদক মামলা কেরানীগঞ্জ বিএনপি অফিস হামলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ; আহত একাধিক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় মাদক বিক্রয় ও সেবনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন্ডা ইউনিয়ন  বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী গুরুত্ব আহত হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, গত ১৪ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণ গাঁও এলাকার খুশি মার্কেট সংলগ্ন বিএনপির পার্টি অফিসে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে একদল হামলাকারী অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছে- হারুন অর রশীদ, মো. মাসুদ রানা ও মো. সাজ্জাদসহ আরও অনেকেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় মাদক বিক্রয় ও সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ হামলা চালায়। তারা বিএনপি অফিসে ঢুকে নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত করে। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আহতদের পরিকল্পনাভাবে হত্যা করা বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের অস্ত্র হাতে অফিসের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। 

তারা আরও দাবি করেন, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কতিপয় আওয়ামী লীগ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। 

বিএনপি নেতা মাসুদ রানা জানান, আমাদের পার্টি অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে কিশোর গ্যাং এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়‌। একারণ আমরা এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশকে নিয়ে অভিযান করেছিলাম। এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

ভুক্তভোগী হারুর অর রশীদ ঢাকার কণ্ঠকে জানান, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় মাদক সেবন এবং বিক্রয় বিষয়ে গ্রামবাসীদের নিয়ে বাধা দেওয়াতে তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় আমি গুরুত্বর আহত হয়ে পড়ি। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি।  

আরেক ভুক্তভোগী সাজ্জাদ বলেন, আমার বাবাকে যখন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করছিল আমি সেখানে গিয়ে বাধা দেয় তারা আমার মাথায় আঘাত করে। এরফলে আমি অজ্ঞান হয়ে যায়।

ওই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আটজন এজাহারনামীয় আসামিসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম ঢাকার কণ্ঠকে জানান, ব্রাহ্মণ গাঁও এলাকার খুশি মার্কেটের সামনে বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকের মতে, মাদককে কেন্দ্র করে এলাকায় মারামারি, সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এদিকে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ঢাকার কণ্ঠ একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের ওই এলাকাতে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।   





ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত