ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬। ০৫:২১ মিনিট

গ্যাসের বিকল্পে মাঠে নামছে বিপিসি, বাড়বে এলপিজি সরবরাহ

গ্যাসের বিকল্পে মাঠে নামছে বিপিসি, বাড়বে এলপিজি সরবরাহ
ছবিঃ সংগ্রহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই সময়ে অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার দুটি গ্যাস-সংক্রান্ত প্রকল্প বাতিল করে সেই অর্থ বিকল্প জ্বালানি খাতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কমাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় পরিসরে এলপিজি সরবরাহে নামছে। এ লক্ষ্যে মোংলা ও এলেঙ্গায় নতুন এলপিজি বোটলিং প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মুহাম্মদ সাইদুল হাসান জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের সরবরাহ ক্রমেই কমছে এবং এর প্রভাব সরাসরি বাসাবাড়িতে পড়ছে। প্রতিবছরই তিতাসের সরবরাহ ব্যবস্থায় গ্যাসের পরিমাণ কমে আসছে। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হতে পারে বলে সরকারকে জানানো হয়েছে।

তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি স্টেশন ও কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ১৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস আসছে।

গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গভীর রাতে রান্না করছেন। একই সংকটের প্রভাব পড়েছে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে উৎপাদন আংশিকভাবে চালাতে বাধ্য হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা ও তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহও কমছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে দৈনিক গড়ে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১৭ লাখ ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের প্রকল্প এবং প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প বাতিল করেছে। দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে এলপিজির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিপিসি মোংলা ও এলেঙ্গায় নতুন বোটলিং ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে বছরে ১২ লাখ টন ধারণক্ষমতার একটি ল্যান্ডভিত্তিক এলপিজি টার্মিনাল এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল এলাকায় আরও একটি বৃহৎ সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজি সরবরাহ বাড়বে এবং বেসরকারি কোম্পানির বাজার নিয়ন্ত্রণও কমবে।

বিষয় : বিপিসি এলপিজি গ্যাসের বিকল্প

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্যাসের বিকল্পে মাঠে নামছে বিপিসি, বাড়বে এলপিজি সরবরাহ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই সময়ে অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার দুটি গ্যাস-সংক্রান্ত প্রকল্প বাতিল করে সেই অর্থ বিকল্প জ্বালানি খাতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কমাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় পরিসরে এলপিজি সরবরাহে নামছে। এ লক্ষ্যে মোংলা ও এলেঙ্গায় নতুন এলপিজি বোটলিং প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মুহাম্মদ সাইদুল হাসান জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের সরবরাহ ক্রমেই কমছে এবং এর প্রভাব সরাসরি বাসাবাড়িতে পড়ছে। প্রতিবছরই তিতাসের সরবরাহ ব্যবস্থায় গ্যাসের পরিমাণ কমে আসছে। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হতে পারে বলে সরকারকে জানানো হয়েছে।

তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি স্টেশন ও কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ১৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস আসছে।

গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গভীর রাতে রান্না করছেন। একই সংকটের প্রভাব পড়েছে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে উৎপাদন আংশিকভাবে চালাতে বাধ্য হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা ও তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহও কমছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে দৈনিক গড়ে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১৭ লাখ ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের প্রকল্প এবং প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প বাতিল করেছে। দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে এলপিজির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিপিসি মোংলা ও এলেঙ্গায় নতুন বোটলিং ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে বছরে ১২ লাখ টন ধারণক্ষমতার একটি ল্যান্ডভিত্তিক এলপিজি টার্মিনাল এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল এলাকায় আরও একটি বৃহৎ সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজি সরবরাহ বাড়বে এবং বেসরকারি কোম্পানির বাজার নিয়ন্ত্রণও কমবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত