আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার নীতিগতভাবে তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর দুবাই পুলিশ বাংলাদেশের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে। বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয়ে আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে তারা।
মামলাগুলোর তদন্ত করছে দুদক। তাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছে সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তারা।
বিবিসি বাংলাকে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, দুবাই পুলিশের চাওয়া প্রায় সব নথিই প্রস্তুত করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে নথিপত্র দ্রুত দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না।
তবে আইনজীবীরা বলছেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল। বর্তমানে ভারত ও থাইল্যান্ড ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তি নেই।
তাদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে—অপরাধসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে উপস্থাপিত নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন জানিয়েছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দেশটির আদালত প্রত্যর্পণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসরের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে দুদক তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
বিষয় : বেনজীর আহমেদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার নীতিগতভাবে তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর দুবাই পুলিশ বাংলাদেশের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে। বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয়ে আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে তারা।
মামলাগুলোর তদন্ত করছে দুদক। তাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছে সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তারা।
বিবিসি বাংলাকে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, দুবাই পুলিশের চাওয়া প্রায় সব নথিই প্রস্তুত করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে নথিপত্র দ্রুত দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না।
তবে আইনজীবীরা বলছেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল। বর্তমানে ভারত ও থাইল্যান্ড ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তি নেই।
তাদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে—অপরাধসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে উপস্থাপিত নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন জানিয়েছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দেশটির আদালত প্রত্যর্পণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসরের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে দুদক তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

আপনার মতামত লিখুন