ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬। ০৫:০৯ মিনিট

শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, ভারতের আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল এটি আমাদের প্রশ্ন।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়ে থেকেও তিনি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে সরকারের প্রশ্ন রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়ে ভারতের ব্যাখ্যা থাকা উচিত।

গত ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লির দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় এক পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাই অন্য পক্ষেরও একই অধিকার থাকা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং তারা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে। সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না; তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ভারত সরকারের সমর্থন ছাড়া নয়াদিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন সম্ভব নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও দলটির শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয় : সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, ভারতের আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল এটি আমাদের প্রশ্ন।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়ে থেকেও তিনি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে সরকারের প্রশ্ন রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়ে ভারতের ব্যাখ্যা থাকা উচিত।

গত ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লির দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় এক পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাই অন্য পক্ষেরও একই অধিকার থাকা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং তারা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে। সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না; তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ভারত সরকারের সমর্থন ছাড়া নয়াদিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন সম্ভব নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও দলটির শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত