ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ । ০৪:১৪ মিনিট

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, বদলে গেল রাজনৈতিক ভূমিকা

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, বদলে গেল রাজনৈতিক ভূমিকা

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মনোনীত প্রার্থী। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন হলে আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম, ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক। পারিবারিকভাবে রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে উঠলেও নিজের রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন ছাত্রজীবনে।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন মির্জা ফখরুল। ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালের শেষদিকে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।

সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার উত্থান শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের গুরুত্বপূর্ণ উত্থান ঘটে ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর। ওই সময় তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দেশে থেকেই দলীয় কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে

বিএনপির দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনেও মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান নেতাদের একজন। সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা এবং দলীয় কর্মসূচি ঘোষণায় তাকে নিয়মিত সামনে দেখা গেছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার নয়াপল্টনের সংঘর্ষের পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২৬ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়

ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌর রাজনীতি, বিএনপির তৃণমূল নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেরিয়ে দলের মহাসচিব হয়েছেন মির্জা ফখরুল। এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তবে মনোনয়ন পেলেই রাষ্ট্রপতি হওয়া নিশ্চিত নয়। আগামী ২০ আগস্টের ভোট ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না। বর্তমানে ২৩তম রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিষয় : মির্জা ফখরুল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, বদলে গেল রাজনৈতিক ভূমিকা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মনোনীত প্রার্থী। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন হলে আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম, ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক। পারিবারিকভাবে রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে উঠলেও নিজের রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন ছাত্রজীবনে।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন মির্জা ফখরুল। ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালের শেষদিকে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।

সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার উত্থান শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের গুরুত্বপূর্ণ উত্থান ঘটে ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর। ওই সময় তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দেশে থেকেই দলীয় কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে

বিএনপির দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনেও মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান নেতাদের একজন। সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা এবং দলীয় কর্মসূচি ঘোষণায় তাকে নিয়মিত সামনে দেখা গেছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার নয়াপল্টনের সংঘর্ষের পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২৬ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়

ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌর রাজনীতি, বিএনপির তৃণমূল নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেরিয়ে দলের মহাসচিব হয়েছেন মির্জা ফখরুল। এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তবে মনোনয়ন পেলেই রাষ্ট্রপতি হওয়া নিশ্চিত নয়। আগামী ২০ আগস্টের ভোট ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না। বর্তমানে ২৩তম রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত