ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬। ০৮:২১ মিনিট

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া দেশটির সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে ঢাকা একমত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের দেওয়া ওই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয়। রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের সময় সেই পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়েই তাদের ফেরত নেওয়া প্রয়োজন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বিষয়গুলো নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, চীনের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীন সরকার বাংলাদেশকে জানিয়েছিল, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশ শুধু মিয়ানমার সরকারের ওপর নয়, রাখাইনে প্রভাবশালী আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কারণ প্রত্যাবাসন কার্যকর করতে রাখাইনের বাস্তব পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

গত শনিবার মিয়ানমার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়, বরং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কেন প্রতিবাদ করেনি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, বিষয়টি এমন নয়।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই বেশি কার্যকর। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে ঢাকা। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে

বিষয় : বাংলাদেশ রোহিঙ্গা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া দেশটির সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে ঢাকা একমত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের দেওয়া ওই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয়। রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের সময় সেই পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়েই তাদের ফেরত নেওয়া প্রয়োজন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বিষয়গুলো নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, চীনের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীন সরকার বাংলাদেশকে জানিয়েছিল, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশ শুধু মিয়ানমার সরকারের ওপর নয়, রাখাইনে প্রভাবশালী আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কারণ প্রত্যাবাসন কার্যকর করতে রাখাইনের বাস্তব পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

গত শনিবার মিয়ানমার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়, বরং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কেন প্রতিবাদ করেনি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, বিষয়টি এমন নয়।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই বেশি কার্যকর। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে ঢাকা। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং প্রত্যাবাসনের পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত