ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬। ০৩:৪৩ মিনিট

গত ৬ মাসে দেশে কোনো পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় গুমের অভিযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

গত ৬ মাসে দেশে কোনো পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় গুমের অভিযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

গত ছয় মাসে দেশে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যতই ক্ষমতাশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া ধীর হলেও তা অনেক দূর এগিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থেই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে লোক দেখানো বা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করতে চায় না সরকার। এমনভাবে বিচার এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে কেউ পরে বলতে না পারে যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মিরাজ শেখের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করা হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে ভবিষ্যতে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরাধের ধরন ও পরিণতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি আদেশদাতা, সহায়তাকারী, প্ররোচনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদেরও আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, গুম প্রতিরোধ আইন সংসদে উত্থাপনের সময় ওয়াকআউট করা সুস্থ ধারার রাজনীতি কি না। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর।

বিষয় : আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গত ৬ মাসে দেশে কোনো পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় গুমের অভিযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত ছয় মাসে দেশে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যতই ক্ষমতাশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া ধীর হলেও তা অনেক দূর এগিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থেই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে লোক দেখানো বা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করতে চায় না সরকার। এমনভাবে বিচার এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে কেউ পরে বলতে না পারে যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মিরাজ শেখের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করা হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে ভবিষ্যতে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরাধের ধরন ও পরিণতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি আদেশদাতা, সহায়তাকারী, প্ররোচনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদেরও আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, গুম প্রতিরোধ আইন সংসদে উত্থাপনের সময় ওয়াকআউট করা সুস্থ ধারার রাজনীতি কি না। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত