জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তি পাওয়া ২১ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। জানা গেছে, শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২০ কর্মকর্তার কথা বলা হলেও কালবেলা, টিবিএস ও আইআরডির সিদ্ধান্তসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২১ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাতিল হওয়া শাস্তির মধ্যে ছিল লঘুদণ্ড এবং বেতন স্কেলের দুই থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত অবনমনের মতো ব্যবস্থা। শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আয়কর ও শুল্ক—দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাই রয়েছেন। তাদের মধ্যে শুল্ক ক্যাডারের মো. জাকির হোসেন, মো. সানোয়ারুল কবির, সাধন কুমার কুন্ডু, আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান, সিফাত-ই-মরিয়ম ও হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারসহ কয়েকজন এবং আয়কর ক্যাডারের মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, মামুন মিয়া, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, মোরশেদ উদ্দিন খান ও মাসুমা খাতুন রয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে এনবিআরকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ উদ্যোগের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রয়োজনীয় সংশোধনী না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। এনবিআরের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। ২৮ জুন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কর্মকর্তারা কাজে ফেরেন। আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয় এবং অন্যদের বিরুদ্ধে লঘুদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দণ্ড মওকুফের আবেদন করেন। এদিকে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। এরপর বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনবিআরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবও দায়িত্ব নেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শাস্তি বাতিলের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের প্রত্যাশা, এখন তারা আরও মনোযোগ দিয়ে রাজস্ব আহরণে কাজ করতে পারবেন।
বিষয় : এনবিআর ২১ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তি পাওয়া ২১ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভাগীয় মামলার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। জানা গেছে, শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২০ কর্মকর্তার কথা বলা হলেও কালবেলা, টিবিএস ও আইআরডির সিদ্ধান্তসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২১ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাতিল হওয়া শাস্তির মধ্যে ছিল লঘুদণ্ড এবং বেতন স্কেলের দুই থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত অবনমনের মতো ব্যবস্থা। শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আয়কর ও শুল্ক—দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাই রয়েছেন। তাদের মধ্যে শুল্ক ক্যাডারের মো. জাকির হোসেন, মো. সানোয়ারুল কবির, সাধন কুমার কুন্ডু, আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান, সিফাত-ই-মরিয়ম ও হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারসহ কয়েকজন এবং আয়কর ক্যাডারের মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, মামুন মিয়া, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, মোরশেদ উদ্দিন খান ও মাসুমা খাতুন রয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে এনবিআরকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ উদ্যোগের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রয়োজনীয় সংশোধনী না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। এনবিআরের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। ২৮ জুন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কর্মকর্তারা কাজে ফেরেন। আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয় এবং অন্যদের বিরুদ্ধে লঘুদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দণ্ড মওকুফের আবেদন করেন। এদিকে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। এরপর বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনবিআরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবও দায়িত্ব নেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শাস্তি বাতিলের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের প্রত্যাশা, এখন তারা আরও মনোযোগ দিয়ে রাজস্ব আহরণে কাজ করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন