বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিচ কার্নিভাল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সময়সীমা, পরিকল্পনা, ব্যয় এবং প্রচলিত পর্যটন আয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পর্যটন বিকাশের নামে নেওয়া এমন দীর্ঘমেয়াদি আয়োজন কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা প্রয়োজন।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে উৎসব, মেলা ও কার্নিভালের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এসব আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, তিন মাসব্যাপী একটি আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের সেবার মান উন্নয়নে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
এদিকে প্রতিবছর পর্যটন মেলা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হলেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, শৈবাল পয়েন্টসহ পর্যটনসম্পদের দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই বললেই চলে। ফলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত যেন বছরের পর বছর একই জায়গায় আটকে আছে। প্রশ্ন উঠছে—পর্যটনসম্পদ থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব কোথায় ব্যয় হচ্ছে? উন্নয়নের সুফল কেন পাচ্ছেন না পর্যটক ও স্থানীয়রা?
তিন মাসব্যাপী আয়োজন কতটা যৌক্তিক? এতো দীর্ঘ কার্নিভাল এটার কদর থাকবে কি না? নাকি স্হানীয় পর্যটন ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এটা নিয়ে এখন থেকে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এছাড়া আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রকৃত অবদান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। শুধু জমকালো আয়োজন কিংবা প্রচারণা দিয়ে পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা।
পর্যটন মেলার সঙ্গে সমন্বয় কোথায়?
কক্সবাজারে প্রচলিত পর্যটন মেলা কিংবা একই সময়ে অন্য কোনো পর্যটন আয়োজন থাকলে সেগুলোর সঙ্গে বিচ কার্নিভালের সময়সূচি ও কার্যক্রমের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বয়ের অভাবে দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী, পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই নতুন আয়োজনের আগে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হবেন?
কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ট্যুর অপারেটর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সৈকতকেন্দ্রিক অসংখ্য মানুষের জীবিকা জড়িত। তিন মাসের কার্নিভালে এসব স্থানীয় ব্যবসায়ী কতটা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, তাঁদের জন্য কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং আয়োজনে তাঁদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি।
একটি আয়োজন যদি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক সৈকতের পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা কি অগ্রাধিকার পাবে?
কক্সবাজারের প্রধান সম্পদ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রসৈকত। দীর্ঘ সময় ধরে বড় আয়োজন চললে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ, যানজট, জননিরাপত্তা এবং সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে গিয়ে সৈকতের পরিবেশ ও সাধারণ পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
কক্সবাজারের মানুষ ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—পর্যটনের নামে শুধু উৎসব নয়, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক, যা সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করবে, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পর্যটনের দায়িত্বে থাকা এবং হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন বলেন, “এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।”

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিচ কার্নিভাল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সময়সীমা, পরিকল্পনা, ব্যয় এবং প্রচলিত পর্যটন আয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পর্যটন বিকাশের নামে নেওয়া এমন দীর্ঘমেয়াদি আয়োজন কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা প্রয়োজন।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে উৎসব, মেলা ও কার্নিভালের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এসব আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, তিন মাসব্যাপী একটি আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের সেবার মান উন্নয়নে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
এদিকে প্রতিবছর পর্যটন মেলা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হলেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, শৈবাল পয়েন্টসহ পর্যটনসম্পদের দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই বললেই চলে। ফলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত যেন বছরের পর বছর একই জায়গায় আটকে আছে। প্রশ্ন উঠছে—পর্যটনসম্পদ থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব কোথায় ব্যয় হচ্ছে? উন্নয়নের সুফল কেন পাচ্ছেন না পর্যটক ও স্থানীয়রা?
তিন মাসব্যাপী আয়োজন কতটা যৌক্তিক? এতো দীর্ঘ কার্নিভাল এটার কদর থাকবে কি না? নাকি স্হানীয় পর্যটন ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এটা নিয়ে এখন থেকে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এছাড়া আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রকৃত অবদান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। শুধু জমকালো আয়োজন কিংবা প্রচারণা দিয়ে পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা।
পর্যটন মেলার সঙ্গে সমন্বয় কোথায়?
কক্সবাজারে প্রচলিত পর্যটন মেলা কিংবা একই সময়ে অন্য কোনো পর্যটন আয়োজন থাকলে সেগুলোর সঙ্গে বিচ কার্নিভালের সময়সূচি ও কার্যক্রমের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বয়ের অভাবে দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী, পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই নতুন আয়োজনের আগে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হবেন?
কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ট্যুর অপারেটর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সৈকতকেন্দ্রিক অসংখ্য মানুষের জীবিকা জড়িত। তিন মাসের কার্নিভালে এসব স্থানীয় ব্যবসায়ী কতটা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, তাঁদের জন্য কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং আয়োজনে তাঁদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি।
একটি আয়োজন যদি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক সৈকতের পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা কি অগ্রাধিকার পাবে?
কক্সবাজারের প্রধান সম্পদ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রসৈকত। দীর্ঘ সময় ধরে বড় আয়োজন চললে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ, যানজট, জননিরাপত্তা এবং সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে গিয়ে সৈকতের পরিবেশ ও সাধারণ পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
কক্সবাজারের মানুষ ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—পর্যটনের নামে শুধু উৎসব নয়, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক, যা সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করবে, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পর্যটনের দায়িত্বে থাকা এবং হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন বলেন, “এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।”

আপনার মতামত লিখুন