ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ০১:০৮ মিনিট

মেরিন ড্রাইভে উচ্ছেদ আতঙ্ক, সমন্বিত উদ্যোগ চান রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা

মেরিন ড্রাইভে উচ্ছেদ আতঙ্ক, সমন্বিত উদ্যোগ চান রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা

কক্সবাজারের বৃহত্তর মেরিন ড্রাইভ সড়কের পর্যটন ব্যবসার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিসোর্ট, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) উচ্ছেদ নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন তাঁরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, সম্প্রতি টুপটুপ রিসোর্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে মেরিন ড্রাইভ সড়কে ব্যবসা-বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কারণ, এ অঞ্চলের পর্যটন খাতের সঙ্গে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, পরিবহনশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন খাতে সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। তাঁদের ভাষায়, “পর্যটন বাঁচলে কক্সবাজার বাঁচবে, আর কক্সবাজার বাঁচলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

লাইসেন্স ও অনুমোদন পেতে ভোগান্তির অভিযোগ

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নতুন ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। কোন ব্যবসার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, সরকারি ফি কত এবং কত দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ব্যবসার জমিসহ অন্যান্য বিষয় বৈধ ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর কেন বৈধতা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে? এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

তাঁরা আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা কর, ভ্যাট, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য প্রযোজ্য সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকেন। অথচ প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতার ঘাটতি রয়েছে।

‘সহায়তা ডেস্ক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের দাবি

পর্যটন ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে একটি বিশেষ ‘সহায়তা ডেস্ক’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই ডেস্ক থেকে একজন উদ্যোক্তা যেন এক জায়গায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সরকারি ফি ও নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারেন।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সেবা এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুরও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

কউকের উচ্ছেদ নোটিশে আতঙ্ক

অন্যদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেল ও খাবার হোটেল উচ্ছেদের নোটিশ এবং তিন দিনের সময়সীমা দেওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের দাবি, হঠাৎ উচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক এলাকায় প্রায় ৫০০টি রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন ব্যবসায় যেকোনো ধরনের ধাক্কা শুধু মালিকদের নয়, বাবুর্চি, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভ্যানচালক ও বাজারের সরবরাহকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তাই নতুন কোনো নিয়ম, নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ কার্যকর করার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি সরকারি জরিপের মাধ্যমে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষের সঠিক তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করে সংকটকালীন সময়ে তাঁদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ তৈরি করা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগই পারে মেরিন ড্রাইভের পর্যটন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও টেকসই করতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


মেরিন ড্রাইভে উচ্ছেদ আতঙ্ক, সমন্বিত উদ্যোগ চান রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


কক্সবাজারের বৃহত্তর মেরিন ড্রাইভ সড়কের পর্যটন ব্যবসার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিসোর্ট, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) উচ্ছেদ নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন তাঁরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, সম্প্রতি টুপটুপ রিসোর্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে মেরিন ড্রাইভ সড়কে ব্যবসা-বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কারণ, এ অঞ্চলের পর্যটন খাতের সঙ্গে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, পরিবহনশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন খাতে সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। তাঁদের ভাষায়, “পর্যটন বাঁচলে কক্সবাজার বাঁচবে, আর কক্সবাজার বাঁচলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

লাইসেন্স ও অনুমোদন পেতে ভোগান্তির অভিযোগ

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নতুন ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। কোন ব্যবসার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, সরকারি ফি কত এবং কত দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ব্যবসার জমিসহ অন্যান্য বিষয় বৈধ ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর কেন বৈধতা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে? এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

তাঁরা আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা কর, ভ্যাট, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য প্রযোজ্য সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকেন। অথচ প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতার ঘাটতি রয়েছে।

‘সহায়তা ডেস্ক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের দাবি

পর্যটন ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে একটি বিশেষ ‘সহায়তা ডেস্ক’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই ডেস্ক থেকে একজন উদ্যোক্তা যেন এক জায়গায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সরকারি ফি ও নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারেন।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সেবা এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুরও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

কউকের উচ্ছেদ নোটিশে আতঙ্ক

অন্যদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেল ও খাবার হোটেল উচ্ছেদের নোটিশ এবং তিন দিনের সময়সীমা দেওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের দাবি, হঠাৎ উচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক এলাকায় প্রায় ৫০০টি রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন ব্যবসায় যেকোনো ধরনের ধাক্কা শুধু মালিকদের নয়, বাবুর্চি, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভ্যানচালক ও বাজারের সরবরাহকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তাই নতুন কোনো নিয়ম, নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ কার্যকর করার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি সরকারি জরিপের মাধ্যমে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষের সঠিক তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করে সংকটকালীন সময়ে তাঁদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ তৈরি করা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগই পারে মেরিন ড্রাইভের পর্যটন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও টেকসই করতে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত