ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬। ০১:০৬ মিনিট

কেরানীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ১০ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

কেরানীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ১০ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী দূষণকারী ওয়াশিং ও ডাইং কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১০টি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও ডিপিডিসির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মাহবুব জামিল। তিনি বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ছাড়া তরল বর্জ্য নির্গমনকারী ডাইং ও ওয়াশিং কারখানার বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদী দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা। এসব কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির অধীনে পরিচালিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চলছে।

মাহবুব জামিল বলেন, গত দেড় মাস ধরে শ্যামপুর থেকে অভিযান কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। নভেম্বর থেকে মূলত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে যেসব কারখানায় আজ অভিযান চালানো হয়েছে, এর কয়েকটির বিদ্যুৎ সংযোগ আগেও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন নামে বা বেনামে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

তিনি বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকতে হবে। ডাইং বা ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইটিপি স্থাপনও বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযানের আওতায় আসা অনেক প্রতিষ্ঠানের এসব অনুমোদন নেই। তা ছাড়া কারখানাগুলোর অবস্থান আবাসিক এলাকায়, যেখানে মানুষ বসবাসের পাশাপাশি শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ধরনের এলাকায় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনার সুযোগ নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে ১০টি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে দেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে না পারে। এরপরও কেউ বেআইনিভাবে কার্যক্রম চালালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা পরিবেশদূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ১০ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী দূষণকারী ওয়াশিং ও ডাইং কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১০টি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও ডিপিডিসির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মাহবুব জামিল। তিনি বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ছাড়া তরল বর্জ্য নির্গমনকারী ডাইং ও ওয়াশিং কারখানার বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদী দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা। এসব কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির অধীনে পরিচালিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চলছে।

মাহবুব জামিল বলেন, গত দেড় মাস ধরে শ্যামপুর থেকে অভিযান কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। নভেম্বর থেকে মূলত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে যেসব কারখানায় আজ অভিযান চালানো হয়েছে, এর কয়েকটির বিদ্যুৎ সংযোগ আগেও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন নামে বা বেনামে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

তিনি বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকতে হবে। ডাইং বা ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইটিপি স্থাপনও বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযানের আওতায় আসা অনেক প্রতিষ্ঠানের এসব অনুমোদন নেই। তা ছাড়া কারখানাগুলোর অবস্থান আবাসিক এলাকায়, যেখানে মানুষ বসবাসের পাশাপাশি শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ধরনের এলাকায় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনার সুযোগ নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে ১০টি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে দেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে না পারে। এরপরও কেউ বেআইনিভাবে কার্যক্রম চালালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা পরিবেশদূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত