টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বন্যা ও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। একই সঙ্গে ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন, খাগড়াছড়িতে একজন এবং বান্দরবানে দুজন রয়েছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্গত মানুষের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৭ হাজার ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ২২ হাজার ৬০০ জন, বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন রয়েছেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমও চলছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিনও সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যার কারণে কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে হাজার হাজার হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পানের বরজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বন্যা ও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। একই সঙ্গে ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন, খাগড়াছড়িতে একজন এবং বান্দরবানে দুজন রয়েছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্গত মানুষের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৭ হাজার ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ২২ হাজার ৬০০ জন, বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন রয়েছেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমও চলছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিনও সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যার কারণে কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে হাজার হাজার হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পানের বরজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন