ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ । ০২:৩০ মিনিট

ডিএসসিসি' তে ময়লা বিল ১শ টাকা, কেরানীগঞ্জে তিন গুন কেন?

ডিএসসিসি' তে ময়লা বিল ১শ টাকা, কেরানীগঞ্জে তিন গুন কেন?
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ছবি: সংগৃহীত

বসতবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন সংগ্রহ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (পিসিএসপি) সাথে সোমবার (১১ মে) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম

এদিকে, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত টাকার তিন গুন বজ্যের বিল আদায় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডিএসসিসি এই ঘোষণার পর তা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অন্যান্য জায়গায় ময়লা বিল কম হলেও এদিকে অনেক বেশী। প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহে একদিন নিতে আসেন তারা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে তারা ময়লা ও বজ্য বৃদ্ধি করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন। 

সভায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

সভায় গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ ও নির্দেশনাবলী:

অতিরিক্ত বিল বন্ধ: নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ: 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকতে পারবে না।

কোরবানি পরবর্তী বিশেষ প্রস্তুতি: ঈদুল আজহার তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে থাকতে হবে।

পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ ও পোশাক: নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাস্তা বা খালে ময়লা ফেললেই মোবাইল কোর্ট: রাস্তা বা খালে কোনোভাবেই ময়লা ফেলা যাবে না। কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যদি রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা হয়, তাহলে সেই বাসায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রশাসক আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিষয় : কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ময়লা ময়লা বিল ডিএসসিসি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিএসসিসি' তে ময়লা বিল ১শ টাকা, কেরানীগঞ্জে তিন গুন কেন?

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

বসতবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন সংগ্রহ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (পিসিএসপি) সাথে সোমবার (১১ মে) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম

এদিকে, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত টাকার তিন গুন বজ্যের বিল আদায় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডিএসসিসি এই ঘোষণার পর তা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অন্যান্য জায়গায় ময়লা বিল কম হলেও এদিকে অনেক বেশী। প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহে একদিন নিতে আসেন তারা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে তারা ময়লা ও বজ্য বৃদ্ধি করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন। 

সভায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

সভায় গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ ও নির্দেশনাবলী:

অতিরিক্ত বিল বন্ধ: নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ: 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকতে পারবে না।

কোরবানি পরবর্তী বিশেষ প্রস্তুতি: ঈদুল আজহার তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে থাকতে হবে।

পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ ও পোশাক: নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাস্তা বা খালে ময়লা ফেললেই মোবাইল কোর্ট: রাস্তা বা খালে কোনোভাবেই ময়লা ফেলা যাবে না। কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যদি রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা হয়, তাহলে সেই বাসায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রশাসক আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত