ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬। ০১:৫১ মিনিট

কেরানীগঞ্জে মরুভূমির দুম্বার বিশাল খামার

কেরানীগঞ্জে মরুভূমির দুম্বার বিশাল খামার

মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশের খামার শিল্পে। আর সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরের নোয়াদ্দা এলাকায় গড়ে ওঠা ‘পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম’। বিশাল পরিসরের এই খামারটি বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় দুম্বা খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

২০২০ সালে মাত্র তিনটি তুর্কি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন খামারের উদ্যোক্তা হাজী উজ্জ্বল ইসলাম। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বৃহৎ বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে এখানে শত শত দুম্বা, গাড়ল ও বিভিন্ন জাতের ভেড়া পালন করা হচ্ছে।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারটিতে বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসছেন মরুর এই প্রাণী দেখতে ও কিনতে। খামারজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

খামারের ম্যানেজার হাফিজুর ইসলাম হাফিজ জানান, দুম্বা পালনে মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে চাহিদা আরও বাড়ে। তিনি বলেন, “আমাদের খামারে বর্তমানে ৪০০-এর বেশি দুম্বা রয়েছে। জাত ও আকারভেদে প্রতিটি দুম্বার দাম ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।”

তিনি আরও জানান, প্রাণীগুলোকে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে ঘাস, গমের ভুসি, ডাবলি ভুসি ও ছোলার ভুসি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার কারণে দুম্বাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খামারের শ্রমিক রিয়াজ বলেন, “এখানে কাজ করার আগে কখনও দুম্বা দেখিনি। এখন নিজের হাতে তাদের যত্ন নিই। ঈদ সামনে হওয়ায় প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছেন। আমাদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে।”

তিনি জানান, খামারটিতে বর্তমানে ৩৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। দুম্বার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন প্রজাতির ভেড়া ও গাড়লও পালন করা হয়।

দর্শনার্থী আলম বলেন, “ভিডিওতে দুম্বা দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে এই প্রথম দেখলাম। কেরানীগঞ্জে এত বড় খামার আছে, সেটা সত্যিই অবাক করার মতো। দেখে মনে হচ্ছে এটি লাভজনক একটি খাত।”

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী খামার শুধু প্রাণিসম্পদ খাতেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে না, বরং এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস সাত্তার বেগ বলেন, “দুম্বা সাধারণত শুষ্ক ও গরম অঞ্চলের প্রাণী হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে এখন বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দেশে দুম্বা পালনের সম্ভাবনাও বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে বাংলাদেশে দুম্বা পালন আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এটি প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বিষয় : পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম পপুলার এগ্রো দুম্বার খামার কেরানীগঞ্জ দুম্বার খামার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে মরুভূমির দুম্বার বিশাল খামার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশের খামার শিল্পে। আর সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরের নোয়াদ্দা এলাকায় গড়ে ওঠা ‘পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম’। বিশাল পরিসরের এই খামারটি বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় দুম্বা খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

২০২০ সালে মাত্র তিনটি তুর্কি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন খামারের উদ্যোক্তা হাজী উজ্জ্বল ইসলাম। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বৃহৎ বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে এখানে শত শত দুম্বা, গাড়ল ও বিভিন্ন জাতের ভেড়া পালন করা হচ্ছে।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারটিতে বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসছেন মরুর এই প্রাণী দেখতে ও কিনতে। খামারজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

খামারের ম্যানেজার হাফিজুর ইসলাম হাফিজ জানান, দুম্বা পালনে মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে চাহিদা আরও বাড়ে। তিনি বলেন, “আমাদের খামারে বর্তমানে ৪০০-এর বেশি দুম্বা রয়েছে। জাত ও আকারভেদে প্রতিটি দুম্বার দাম ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।”

তিনি আরও জানান, প্রাণীগুলোকে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে ঘাস, গমের ভুসি, ডাবলি ভুসি ও ছোলার ভুসি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার কারণে দুম্বাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খামারের শ্রমিক রিয়াজ বলেন, “এখানে কাজ করার আগে কখনও দুম্বা দেখিনি। এখন নিজের হাতে তাদের যত্ন নিই। ঈদ সামনে হওয়ায় প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছেন। আমাদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে।”

তিনি জানান, খামারটিতে বর্তমানে ৩৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। দুম্বার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন প্রজাতির ভেড়া ও গাড়লও পালন করা হয়।

দর্শনার্থী আলম বলেন, “ভিডিওতে দুম্বা দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে এই প্রথম দেখলাম। কেরানীগঞ্জে এত বড় খামার আছে, সেটা সত্যিই অবাক করার মতো। দেখে মনে হচ্ছে এটি লাভজনক একটি খাত।”

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী খামার শুধু প্রাণিসম্পদ খাতেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে না, বরং এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস সাত্তার বেগ বলেন, “দুম্বা সাধারণত শুষ্ক ও গরম অঞ্চলের প্রাণী হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে এখন বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দেশে দুম্বা পালনের সম্ভাবনাও বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে বাংলাদেশে দুম্বা পালন আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এটি প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত