ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ । ১১:০২ মিনিট

ঢাকার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ঝিলমিল হাসপাতাল তদন্তে কমিটি গঠন

ঢাকার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ঝিলমিল হাসপাতাল তদন্তে কমিটি গঠন
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এলাকায় ঝিলমিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও ভুল চিকিৎসায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে ঢাকার কণ্ঠের সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়। 

অভিযোগ তদন্তে কয়েক সদস্যের একটি তদন্ত টিম বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরের মধ্যে হাসপাতালে পরিদর্শনে যাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মুকাদ্দেস। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই রাতেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। রাত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আজ (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে।

পরিবারটির অভিযোগ, নিহত আবু হানিফ গত ২৫ জুলাই পাইলসের চিকিৎসার জন্য কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়েরের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পাইলসের অস্ত্রোপচারের জন্য ২৭ জুলাই বিকেল ৫টায় ঝিলমিল হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবার।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, অস্ত্রোপচার শেষে ডা. মোহাম্মদ আবু খায়ের দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্টাফরা একের পর এক স্যালাইন, ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিলমিল হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। 

হাসপাতালের ম্যানেজার নারায়ণ সরকার বলেন, "ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। রাত ১টা ১৮ মিনিটে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁচানোর জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।"

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি। সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে তিনি শকে (Shock) যেতে পারেন।"

এদিকে, নিহতের পরিবার হাসপাতাল থেকে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। দাফনের পর এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

নিহত আবু হানিফ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার শরীফের বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপাশা কাশিমপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হরি চাঁদ বলেন, নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণ করতে চেয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা অভিযোগ বা মামলা করতে চাইলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বিষয় : ঝিলমিল হাসপাতাল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ঝিলমিল হাসপাতাল তদন্তে কমিটি গঠন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এলাকায় ঝিলমিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও ভুল চিকিৎসায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে ঢাকার কণ্ঠের সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়। 

অভিযোগ তদন্তে কয়েক সদস্যের একটি তদন্ত টিম বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরের মধ্যে হাসপাতালে পরিদর্শনে যাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মুকাদ্দেস। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই রাতেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। রাত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আজ (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে।

পরিবারটির অভিযোগ, নিহত আবু হানিফ গত ২৫ জুলাই পাইলসের চিকিৎসার জন্য কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়েরের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পাইলসের অস্ত্রোপচারের জন্য ২৭ জুলাই বিকেল ৫টায় ঝিলমিল হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবার।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, অস্ত্রোপচার শেষে ডা. মোহাম্মদ আবু খায়ের দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্টাফরা একের পর এক স্যালাইন, ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিলমিল হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। 

হাসপাতালের ম্যানেজার নারায়ণ সরকার বলেন, "ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। রাত ১টা ১৮ মিনিটে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁচানোর জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।"

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি। সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে তিনি শকে (Shock) যেতে পারেন।"

এদিকে, নিহতের পরিবার হাসপাতাল থেকে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। দাফনের পর এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

নিহত আবু হানিফ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার শরীফের বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপাশা কাশিমপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হরি চাঁদ বলেন, নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণ করতে চেয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা অভিযোগ বা মামলা করতে চাইলে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত