ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ‘সরকার ডিজিটাল সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কৃষিজমি ও জলাশয় বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় কৃষক ও জমির মালিকদের হয়রানি এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের পাইনা নয়াগাঁও এলাকায় অর্ধশত নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, পশ্চিমদি মৌজায় তার পৈত্রিক ২৬ শতাংশ কৃষিজমি ‘সরকার ডিজিটাল সিটি’র লোকজন বালু দিয়ে ভরাট করেছে। এতে বাধা দেওয়ায় তাকে এবং আরও চারজনকে আবাসন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আবুল সরকার চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার আসামিদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেন, তার ছেলে রিয়াদ হোসেন, অটোরিকশাচালক আনিছ ও কৃষক শহীদুল্লাহ রয়েছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
মনোয়ার হোসেন বলেন, তার দুই পা অচল। এরপরও কোম্পানির লোকজনের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার কারণে অর্থ খরচ করে আদালতে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষক শহীদুল্লাহ অভিযোগ করেন, তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলায় জামিনে থাকার পরও রাতে পুলিশ এসে হয়রানি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মালিক রিয়াদ হোসেন বলেন, মালিকদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বালু ভরাট করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করলেও তাদের যেন হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদি মৌজা এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর পশ্চিমদি মৌজায় কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় নিয়মিত বালু ফেলে জমির প্রকৃতি পরিবর্তনেরও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। জোরপূর্বক বালু ভরাট, প্রতিবাদকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা এবং জমির মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরকার ডিজিটাল সিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবুল সরকার। তিনি বলেন, একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি ও জলাধার ভরাট করা যাবে না। কেউ এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : কেরানীগঞ্জ মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ‘সরকার ডিজিটাল সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কৃষিজমি ও জলাশয় বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় কৃষক ও জমির মালিকদের হয়রানি এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের পাইনা নয়াগাঁও এলাকায় অর্ধশত নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, পশ্চিমদি মৌজায় তার পৈত্রিক ২৬ শতাংশ কৃষিজমি ‘সরকার ডিজিটাল সিটি’র লোকজন বালু দিয়ে ভরাট করেছে। এতে বাধা দেওয়ায় তাকে এবং আরও চারজনকে আবাসন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আবুল সরকার চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার আসামিদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেন, তার ছেলে রিয়াদ হোসেন, অটোরিকশাচালক আনিছ ও কৃষক শহীদুল্লাহ রয়েছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
মনোয়ার হোসেন বলেন, তার দুই পা অচল। এরপরও কোম্পানির লোকজনের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার কারণে অর্থ খরচ করে আদালতে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষক শহীদুল্লাহ অভিযোগ করেন, তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলায় জামিনে থাকার পরও রাতে পুলিশ এসে হয়রানি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মালিক রিয়াদ হোসেন বলেন, মালিকদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বালু ভরাট করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করলেও তাদের যেন হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদি মৌজা এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর পশ্চিমদি মৌজায় কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় নিয়মিত বালু ফেলে জমির প্রকৃতি পরিবর্তনেরও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। জোরপূর্বক বালু ভরাট, প্রতিবাদকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা এবং জমির মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরকার ডিজিটাল সিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবুল সরকার। তিনি বলেন, একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি ও জলাধার ভরাট করা যাবে না। কেউ এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন