ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বুধবার, ২০ মে ২০২৬ । ০২:০৪ মিনিট

ফ্ল্যাট বিক্রয় নিয়ে প্রতারণা:

বিদিশা এরশাদের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিদিশা এরশাদের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ছবি: সংগৃহীত

ফ্ল্যাট বিক্রয় নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। 

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণার তিনি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।  

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা হুসাইনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার  বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা হুসাইন বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা হুসাইন টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদিশা হুসাইন বাদীকে জানিয়েছিলেন,সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

বিষয় : বিদিশা এরশাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদিশা এরশাদের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

ফ্ল্যাট বিক্রয় নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। 

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণার তিনি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।  

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা হুসাইনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার  বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা হুসাইন বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা হুসাইন টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদিশা হুসাইন বাদীকে জানিয়েছিলেন,সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মামলায় দাবি করা হয়।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত