ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ । ০৯:২০ মিনিট

চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে ২ সাংবাদিক আহত

চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে ২ সাংবাদিক আহত
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। ভবন ঘেরাওয়ের পর অভিযুক্ত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে দুই সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখে।

পুলিশ ও স্থানীয় তথ্যমতে, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকান কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবক যে ভবনে লুকিয়ে ছিল, সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ এবং সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরুতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ভবনে ঢুকতে বাধা দিলেও পরে পুলিশ অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মচারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাকে থানায় নিয়ে আসার জন্য গাড়িতে তোলা হলে উত্তেজিত জনতা চারপাশ থেকে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে পথ আটকে দেয়।

এ ঘটনার শিকার শিশুটির এক আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে টিবিএসকে বলেন, "আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই। ওকে পুলিশের হাতে দেব না, আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।"

জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এ বিষয়টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া  বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে— এমন আশ্বাস দেওয়ার পরও উত্তেজিত জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে হয়েছে।"

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুই গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ এর সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান।

বিষয় : চট্টগ্রাম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে ২ সাংবাদিক আহত

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। ভবন ঘেরাওয়ের পর অভিযুক্ত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে দুই সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখে।

পুলিশ ও স্থানীয় তথ্যমতে, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকান কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবক যে ভবনে লুকিয়ে ছিল, সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ এবং সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরুতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ভবনে ঢুকতে বাধা দিলেও পরে পুলিশ অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মচারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাকে থানায় নিয়ে আসার জন্য গাড়িতে তোলা হলে উত্তেজিত জনতা চারপাশ থেকে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে পথ আটকে দেয়।

এ ঘটনার শিকার শিশুটির এক আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে টিবিএসকে বলেন, "আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই। ওকে পুলিশের হাতে দেব না, আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।"

জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এ বিষয়টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া  বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে— এমন আশ্বাস দেওয়ার পরও উত্তেজিত জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে হয়েছে।"

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুই গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ এর সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত