ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে মো. ফরহাদ হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার কারণ জানা গেছে। এ হত্যার ঘটনায় পুরোনো গ্যাং বিরোধের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ।
মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারকেন্দ্রিক দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে বুধবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সাব্বির, সোহেল, আরমান, রমিজ হোসেন ও সজিব ওরফে পিচ্চি সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত ফরহাদ মোহাম্মদপুরের একটি গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ওই গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত এলেক্স ইমন নিহত হওয়ার পর ফরহাদ গ্রুপটির নেতৃত্বে আসেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও বাড়ে। সেই বিরোধের জেরেই ফরহাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এলেক্স ইমন। কিছুদিন আগে পাটালী গ্রুপের সদস্যরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ফরহাদ ওই গ্রুপের সদস্য ছিলেন। ইমন নিহত হওয়ার পর ফরহাদ গ্রুপটির নেতৃত্ব দিতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে ইমনের মতো করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে মামলার এজাহারে ফরহাদের মা নাছিমা বেগম অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালে সাব্বিরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের কয়েকজনকে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার ছেলের সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১৯ সালের মার্চে ওই বিরোধের জেরে ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন।
নাছিমা বেগমের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকেই আসামিরা তার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিল। ছেলেকে নিরাপদ রাখতে পরে মোহাম্মদপুর থেকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে বাসা ভাড়া করে দেন তিনি। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে ফরহাদ সেখানে বসবাস করছিলেন।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আরশিনগরের ‘রাজ বারবার জোন’ সেলুনে চুল কাটাতে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তাকে গুলি করার পর সেলুনের বাইরে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় সেলুনের ভেতরে গুলি এবং বাইরে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার-বুদ্ধিজীবী রোড এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এলেক্স ইমন নিহত হন। সেই হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাসের মধ্যেই তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফরহাদ কেরানীগঞ্জে একই ধরনের হামলায় নিহত হলেন। ফলে পুরোনো ওই বিরোধের নতুন করে বিস্তার নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, ফরহাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে মো. ফরহাদ হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার কারণ জানা গেছে। এ হত্যার ঘটনায় পুরোনো গ্যাং বিরোধের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ।
মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারকেন্দ্রিক দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে বুধবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সাব্বির, সোহেল, আরমান, রমিজ হোসেন ও সজিব ওরফে পিচ্চি সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত ফরহাদ মোহাম্মদপুরের একটি গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ওই গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত এলেক্স ইমন নিহত হওয়ার পর ফরহাদ গ্রুপটির নেতৃত্বে আসেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও বাড়ে। সেই বিরোধের জেরেই ফরহাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এলেক্স ইমন। কিছুদিন আগে পাটালী গ্রুপের সদস্যরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ফরহাদ ওই গ্রুপের সদস্য ছিলেন। ইমন নিহত হওয়ার পর ফরহাদ গ্রুপটির নেতৃত্ব দিতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে ইমনের মতো করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে মামলার এজাহারে ফরহাদের মা নাছিমা বেগম অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালে সাব্বিরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের কয়েকজনকে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার ছেলের সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১৯ সালের মার্চে ওই বিরোধের জেরে ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন।
নাছিমা বেগমের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকেই আসামিরা তার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিল। ছেলেকে নিরাপদ রাখতে পরে মোহাম্মদপুর থেকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে বাসা ভাড়া করে দেন তিনি। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে ফরহাদ সেখানে বসবাস করছিলেন।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আরশিনগরের ‘রাজ বারবার জোন’ সেলুনে চুল কাটাতে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তাকে গুলি করার পর সেলুনের বাইরে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় সেলুনের ভেতরে গুলি এবং বাইরে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার-বুদ্ধিজীবী রোড এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এলেক্স ইমন নিহত হন। সেই হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাসের মধ্যেই তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফরহাদ কেরানীগঞ্জে একই ধরনের হামলায় নিহত হলেন। ফলে পুরোনো ওই বিরোধের নতুন করে বিস্তার নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, ফরহাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন